
জুনের মাঝামাঝি সময়ে ভারতে আবহাওয়ায় দেখা দিয়েছে স্পষ্ট বৈপরীত্য। একদিকে মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় অগ্রগতির কারণে দক্ষিণ, পশ্চিম উপকূল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত এবং তুলনামূলক শীতল আবহাওয়া বিরাজ করছে, অন্যদিকে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় অব্যাহত রয়েছে তীব্র তাপপ্রবাহ।
আগামী ১৫ দিনের তাপমাত্রার পূর্বাভাস অনুযায়ী, অঞ্চলভেদে আবহাওয়ার ধরনে ব্যাপক পার্থক্য দেখা যাবে।
উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম ভারতে, বিশেষ করে রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও দিল্লি অঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে। এসব এলাকায় আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে এবং কোথাও কোথাও তীব্র তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
অন্যদিকে মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড় ও বিহারসহ মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করবে। মৌসুমি বায়ুর অগ্রগতি এবং স্থানীয় বজ্রঝড়ের কারণে এসব অঞ্চলের আবহাওয়ায় পরিবর্তনশীলতা বজায় থাকতে পারে।
দক্ষিণ ও পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আবহাওয়া তুলনামূলক শীতল ও আরামদায়ক থাকবে। কেরালা, কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র ও গোয়ায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা সাধারণত ২৮ থেকে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে। একই সঙ্গে এসব এলাকায় ভারী ও অব্যাহত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে।
এদিকে উত্তর-পূর্ব ভারতে প্রাক-বর্ষা ও মৌসুমি বৃষ্টির প্রভাবে তাপমাত্রা ২৮ থেকে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ভারী বৃষ্টির কারণে এ অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় আবহাওয়া কিছুটা শীতল থাকবে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, মৌসুমি বায়ুর ক্রমাগত বিস্তারের ফলে আগামী দুই সপ্তাহেও ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়ার এই বৈচিত্র্য অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে কোথাও তাপপ্রবাহের ঝুঁকি থাকলেও, অন্যদিকে ভারী বর্ষণের কারণে জলাবদ্ধতা ও স্থানীয় বন্যার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।