ঢাকারবিবার , ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ

ভরা মৌসুমেও পদ্মায় ইলিশের দেখা নেই, বিপাকে ৫ হাজার জেলে

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৫ সকাল

Link Copied!

ইলিশের ভরা মৌসুমেও শরীয়তপুরের পদ্মা নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মিলছে না। দিন-রাত নদীতে জাল ফেলেও আশানুরূপ মাছ পাচ্ছেন না জেলেরা। এতে কমেছে তাদের আয়-রোজগার, মন্দা দেখা দিয়েছে নদীপাড়ের মৎস্যঘাটগুলোতেও। ইলিশের আশায় নদীতে মাছ ধরতে যাওয়া প্রায় ৫ হাজার জেলে এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) শরীয়তপুরের পদ্মার বিভিন্ন ঘাট ও নদী এলাকা ঘুরে এবং জেলে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

স্থানীয়দের ধারণা, গত দুই বছরে পদ্মার মাঝপথে বেশ কয়েকটি বড় ডুবোচর জেগে ওঠায় নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বদলে গেছে স্রোতের গতিপথ, তৈরি হয়েছে নতুন নতুন চ্যানেল। কোথাও পলি জমে নদীর তলদেশ ভরাট হয়েছে। এসব পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে ইলিশের বিচরণ ও আহরণে।

জেলেরা জানান, আগে নদীর নির্দিষ্ট কিছু স্থানে জাল ফেললেই ইলিশ পাওয়া যেত। কিন্তু এখন সেই জায়গাগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জাল ফেলেও কাঙ্ক্ষিত মাছ মিলছে না। নদীর গভীরতা ও স্রোতের পরিবর্তনের সঙ্গে ইলিশের চলাচলের পথও বদলে গেছে বলে মনে করছেন তারা।

নড়িয়ার সুরেশ্বর ঘাট, জাজিরার পালেরচর বাজারসহ কয়েকটি মৎস্যঘাট ঘুরে দেখা গেছে, আগের মতো জেলে ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় নেই। বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এলেও পর্যাপ্ত ইলিশ না পাওয়ায় অনেকেই খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এতে ঘাটগুলোতে মাছের বেচাকেনা কমে গেছে।

মাওয়া ঘাটের জেলে রফিক মাঝি ও আয়নাল সরদার বলেন, তারা তিন দশক ধরে পদ্মায় মাছ ধরছেন। আগে কয়েক ঘণ্টা জাল ফেললেই বড় আকারের ইলিশসহ প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। এখন সারাদিন নদীতে থেকেও আগের তুলনায় অনেক কম মাছ মিলছে। আয় কমে যাওয়ায় সংসার চালাতে বিকল্প কাজের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

তাদের মতে, নদীর মাঝখানে চর জেগে ওঠা এবং স্রোতের গতিপথ পরিবর্তনের কারণে ইলিশের স্বাভাবিক বিচরণও ব্যাহত হচ্ছে।

কাঁচিকাটা ঘাটের আড়ত মালিক দেওয়ান ফকির বলেন, জেলেরা পর্যাপ্ত মাছ না পাওয়ায় আড়তেও এর প্রভাব পড়েছে। মাছ কম থাকায় পাইকারদের আনাগোনা কমেছে। কেউ এলেও পর্যাপ্ত মাছ না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এতে ঘাটের ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা ও মেঘনা নদীবেষ্টিত শরীয়তপুর জেলায় মোট ৭১ কিলোমিটার নদীপথ রয়েছে। এর মধ্যে নড়িয়া উপজেলার ৫ কিলোমিটার এবং ভেদরগঞ্জ উপজেলার ১৫ কিলোমিটারসহ মোট ২০ কিলোমিটার নদী এলাকা ইলিশের অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, নদীর স্বাভাবিক গভীরতা ও প্রবাহ ঠিক না থাকলে শুধু ইলিশ নয়, দেশীয় অন্যান্য মাছের বিচরণ ও প্রজনন ক্ষেত্রও সংকুচিত হতে পারে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব বলেন, শরীয়তপুরের পদ্মা অংশে একসময় ইলিশের ব্যাপক বিচরণ ছিল। কিন্তু বর্তমানে নদীর গভীরতা ও প্রবাহের পরিবর্তনে সেই পরিস্থিতি বদলে গেছে। নদীর নাব্যতা সংকটের প্রভাব ইলিশের চলাচলের ওপরও পড়ছে।

তিনি বলেন, শরীয়তপুরে পদ্মার প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকাকে ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে। ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং পরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে চর ও পলি অপসারণ জরুরি।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

বাসচাপায় মা-মেয়ের মৃত্যু, স্বামী আহত

বিশ্ব পর্যটন দিবস আজ

বিদ্যুতের বিল কমাতে যে ভুল ধারণাগুলো এড়িয়ে চলবেন

ভরা মৌসুমেও পদ্মায় ইলিশের দেখা নেই, বিপাকে ৫ হাজার জেলে

ঢাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই, বাড়তে পারে গরম

কম গাড়িতে বাসযোগ্য নগরী গড়ার আহ্বান

মিরপুরে টিকাদান ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র ভাঙচুর-লুটপাট, পিএইচএবির তীব্র নিন্দা

হাম-রুবেলা টিকা থেকে বাদ পড়া ৩৪ লাখ শিশুকে আনার উদ্যোগ

ট্রেনে উঠতে গিয়ে পা পিছলে দুই পা বিচ্ছিন্ন, নারীর মৃত্যু

দেশজুড়ে বৃষ্টির আভাস, কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণ

দেশজুড়ে আজ থেকে দ্বিতীয় দফায় হামের টিকাদান শুরু

বিগত সরকারের টিকা না দেওয়ার খেসারত দিতে হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী