বৈধ ভিসা, নিশ্চিত বিমান টিকিট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকার পরও যুক্তরাজ্যগামী অনেক যাত্রী বোর্ডিং পাস না পেয়ে বিমানবন্দর থেকেই ফিরে যাচ্ছেন। সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গত এক সপ্তাহে অন্তত ৪০ জন যাত্রী চেক-ইন কাউন্টার থেকেই ফেরত গেছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। একই ধরনের সমস্যার মুখে পড়ছেন ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অনেক যাত্রীও।
ভুক্তভোগীরা জানান, বোর্ডিং পাস ইস্যুর সময় এয়ারলাইন্সের কম্পিউটার স্ক্রিনে ‘Check-in Restricted, Contact UK Border Force’ লেখা বার্তা দেখা যাচ্ছে। ফলে বোর্ডিং পাস দেওয়া হচ্ছে না। এতে করে প্রবাসফেরত যাত্রীরা বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। অনেকেই পরিবার রেখে দেশে এসে আটকা পড়ায় তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তি।
বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ কোনো সমস্যা নয়। যুক্তরাজ্যের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সিস্টেমজনিত জটিলতার কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি সমাধানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কাজ করছে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিমানবন্দর সূত্রে আরও জানা গেছে, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের যাত্রীদের চেক-ইনের সময় গত এক সপ্তাহ ধরে এই বার্তা দেখা যাচ্ছে। ফলে যাত্রীদের যুক্তরাজ্যগামী ফ্লাইটে উঠতে দেওয়া হচ্ছে না। যদিও অনেক যাত্রী দাবি করেছেন, তাদের ভিসা ও ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস সম্পূর্ণ বৈধ এবং অনেকের যুক্তরাজ্যের ই-ভিসাও রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, যুক্তরাজ্যের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন বা ই-ভিসা প্রক্রিয়ায় রূপান্তরের সঙ্গে এই জটিলতার সম্পর্ক থাকতে পারে। যুক্তরাজ্য সরকার ধাপে ধাপে ফিজিক্যাল ভিসা ডকুমেন্ট যেমন বায়োমেট্রিক রেসিডেন্স পারমিট (বিআরপি) কার্ড বাতিল করে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ই-ভিসা চালু করছে। তবে অনেক প্রবাসী বিআরপি থেকে ই-ভিসায় রূপান্তর করলেও নতুন পাসপোর্টের তথ্য ইউকেভিআই অ্যাকাউন্টে আপডেট না করায় যাচাইয়ের সময় সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এ ছাড়া এয়ারলাইন্সগুলো যাত্রী যাচাইয়ের জন্য ‘ইন্টারঅ্যাকটিভ অ্যাডভান্স প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন’ (আইএপিআই) সিস্টেম ব্যবহার করে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীর স্ট্যাটাস আপডেট থাকলেও সার্ভার বা ডেটা সমন্বয়ের জটিলতায় কাউন্টারে ভুল তথ্য প্রদর্শিত হতে পারে।
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক মো. হাফিজ আহমদ বলেন, এটি সিলেট বিমানবন্দর বা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিজস্ব কোনো সমস্যা নয়। বিষয়টি যুক্তরাজ্য কর্তৃপক্ষ ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সমাধান করবে। এ বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টিকে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা বলা যাবে না। হয়তো যুক্তরাজ্যের বর্ডার ফোর্স বা সিস্টেম আপগ্রেডেশনের কারণে এমনটি ঘটছে। আপাতত যাত্রীদের ব্রিটিশ হোম অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


