ঢাকাসোমবার , ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • অন্যান্য

বিশ্ব হার্ট দিবস: হৃদরোগ প্রতিরোধে সচেতনতার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৫ ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ । ৩১২ জন

আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব হার্ট দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা আয়োজনে দিনটি উদযাপিত হচ্ছে। হৃদরোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রতি বছর এ দিনটি গুরুত্ব সহকারে পালন করা হয়।

এ বছরের প্রতিপাদ্য- “Don’t Miss a Beat” বা বাংলায় “এক স্পন্দনও মিস করবে না”। এর মাধ্যমে হৃদরোগের আগাম সতর্কতা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সুস্থ জীবনধারা গ্রহণে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব হার্ট ফেডারেশনের উদ্যোগে বিশ্বব্যাপী পালিত এই দিবসে বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই।

বাংলাদেশে কর্মসূচি
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে র‌্যালি, সেমিনার, ফ্রি হেলথ চেকআপ ক্যাম্প, আলোচনা সভা এবং সচেতনতামূলক প্রচারণা। বিভিন্ন টেলিভিশন ও গণমাধ্যমেও হৃদরোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা বিষয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করা হচ্ছে।

ঢাকায় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল দিনটি উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি, ফ্রি কার্ডিওভাসকুলার স্ক্রিনিং ও সেমিনারের আয়োজন করেছে। একইভাবে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালগুলোতেও রোগীদের বিনামূল্যে রক্তচাপ, ব্লাড সুগার এবং ইসিজি পরীক্ষা করা হচ্ছে।

হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি ও করণীয়
বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদরোগ এখন শুধু উন্নত দেশ নয়, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ হৃদরোগ আক্রান্ত হচ্ছেন এবং অনেকে মৃত্যুবরণ করছেন।

চিকিৎসকদের মতে, উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, ধূমপান, অস্বাস্থ্যকর ও তেল-চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার অভ্যাস, ব্যায়ামের অভাব ও মানসিক চাপ-সব মিলিয়েই হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। সময়মতো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিলে এ ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

বাংলাদেশ কার্ডিওলজি সোসাইটির একজন বিশেষজ্ঞ বলেন, “হৃদয়ের যত্ন নেওয়া মানে শুধু রোগের চিকিৎসা নয়, বরং আগেভাগেই সতর্কতা অবলম্বন করা। নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা, ধূমপান পরিহার, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং হাঁটা বা ব্যায়াম করলে হৃদরোগ ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।”

সামাজিক বার্তা
বিশ্ব হার্ট দিবসের মূল বার্তা শুধু রোগ প্রতিরোধ নয়, হৃদয়বান সমাজ গঠনেরও আহ্বান। হৃদ্‌রোগে আক্রান্তদের প্রতি সহমর্মিতা ও যত্ন দেখানো এবং সুস্থ-সচেতন জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তোলা এই দিবসের অন্যতম উদ্দেশ্য।

বিশেষজ্ঞরা সবাইকে অনুরোধ করেছেন নিজেদের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে, শিশুদের অল্প বয়স থেকে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস শেখাতে এবং সমাজে সচেতনতা তৈরিতে সক্রিয় হতে।

আজকের বিশ্ব হার্ট দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়- হৃদয়ের প্রতিটি স্পন্দন অমূল্য, তাই “এক স্পন্দনও মিস করা যাবে না।”