ঢাকাসোমবার , ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশ পেল বিশাল সার সহায়তা

নিজস্ব প্রতিবেদক
জানুয়ারি ১৯, ২০২৬ ২:১২ অপরাহ্ণ । ৬৮ জন

রাশিয়া ফেডারেশন বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশকে উপহার হিসেবে প্রদান করেছে ৩০,০০০ মেট্রিক টন পটাশ সার। এই উদ্যোগ কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে নতুন উদ্দীপনা যোগ করবে এবং দেশীয় খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি এটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, বিশেষ করে বর্তমান বৈশ্বিক সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের প্রেক্ষাপটে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) উপহারপ্রাপ্ত সার হস্তান্তরের অনুষ্ঠান রাজধানীর খামারবাড়িস্থ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়া ফেডারেশনের রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার জি খোজিন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান।

রাশিয়ার শীর্ষ সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান উরালচেম (Uralchem) বাংলাদেশকে এই ৩০,০০০ মেট্রিক টন এমওপি (MOP) পটাশ সার উপহার হিসেবে প্রদান করেছে।

প্রধান অতিথি কৃষি উপদেষ্টা বলেন, “বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে খাদ্য ও সার সরবরাহ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, অস্থিতিশীল আন্তর্জাতিক বাজার এবং বৈশ্বিক সংকট কৃষি খাতকে প্রভাবিত করছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের গুরুত্ব অপরিসীম। আজকের এই উদ্যোগ গঠনমূলক বৈশ্বিক সহযোগিতার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।”

তিনি আরও জানান, “বর্তমানে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)-এর কাছে ইউরিয়া ব্যতীত অন্যান্য সারের মজুদ ১০.৩৫ লাখ মেট্রিক টন, যা প্রতিষ্ঠানটির ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সর্বোচ্চ। এছাড়া বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে কৃষি খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ধান উৎপাদন ৬ শতাংশ, আলু ১৪ শতাংশ, পেঁয়াজ ২২ শতাংশ, সবজি ৩.৭০ শতাংশ এবং সরিষা ৮৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।”

এই উপহারপ্রাপ্ত সার বাংলাদেশে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে জানানো হয়েছে।