ঢাকাসোমবার , ৩০ মার্চ ২০২৬
  • অন্যান্য

বিশ্ববাজারে তেলের দামে নতুন উত্থান, বেড়েছে ২.৯%

নিজস্ব প্রতিবেদক
মার্চ ৩০, ২০২৬ ১০:১৮ পূর্বাহ্ণ । ৩২ জন

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। কিছুদিন দাম কমার পর আবারও বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের মূল্য। এশিয়ার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলারের বেশি হয়েছে।

সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দাঁড়িয়েছে ১১৫ দশমিক ৮৪ ডলার, যা আগের তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসির খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলা শুরুর আগে তেলের দাম ছিল প্রায় ৭২ ডলার। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে দাম বাড়তে থাকে এবং গত ১৯ মার্চ সর্বোচ্চ ১১৮ ডলারে পৌঁছে। পরবর্তীতে কিছুটা কমে এলেও শুক্রবার পর্যন্ত তা ১১২ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছিল, যা যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। এতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন করে চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপী দেশগুলো সংকটে পড়েছে। জ্বালানি নির্ভর অর্থনীতির দেশগুলো এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নানা পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০ ডলার বাড়লে বছরে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত ব্যয় বাড়ে। আর যদি দীর্ঘ সময় ধরে তেলের দাম ১২০ ডলারের ওপরে থাকে, তাহলে বছরে অতিরিক্ত ব্যয় ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ধরনের পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশীয় মুদ্রায় এর প্রভাব প্রায় ৬১ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ হতে পারে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বড় চাপ তৈরি করবে।