
বরগুনায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। সর্বশেষ আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে তিন বছর বয়সী শিশু সাফওয়ান আবদুল্লাহ। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে রোববার (১৫ জুন) সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়।
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. তাসকিয়া সিদ্দিকা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সাফওয়ানকে ডেঙ্গু আক্রান্ত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। প্রথমে তার অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও হঠাৎ করেই অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং সেখানকার চিকিৎসকেরা দ্রুত ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু পথেই শিশুটির মৃত্যু হয়।
সাফওয়ান বরগুনা নার্সিং ইনস্টিটিউটের প্রশিক্ষক সাজিয়া আফরিন এবং পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা মো. আবদুল্লাহ আল মামুন দম্পতির সন্তান। তাদের বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের লাকুরতলা মল্লিকবাড়ি এলাকায়।
সাফওয়ানের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে চলতি মৌসুমে বরগুনায় ডেঙ্গুতে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ জনে।
এদিকে, রোববার জেলায় নতুন করে আরও ৭৯ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত বরগুনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৮৩৮ জন। বর্তমানে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৯২ জন, এবং জেলার অন্যান্য স্থানে আরও ২৩ জন চিকিৎসাধীন আছেন। তবে বেসরকারি হিসেবে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, “ডেঙ্গু চিকিৎসা দিয়ে পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। এজন্য এডিস মশার উৎসস্থল ধ্বংস করতে হবে। জেলার প্রতিটি এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।”