
পটুয়াখালীর বিভিন্ন মাছের আড়তে ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশীয় ও চাষের মাছের দাম দেড় থেকে দুই গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে জেলার খুচরা ও পাইকারি উভয় বাজারে।
জানা গেছে, সমুদ্রে ৫৮ দিনের মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা (১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন) কার্যকর থাকায় পটুয়াখালী নিউ মার্কেট, হেতালিয়াবাদ ঘাটসহ জেলার প্রধান মাছের আড়তগুলোতে সামুদ্রিক মাছের সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
ফলে বাজারে এখন মূলত চাষের মাছের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে ক্রেতাদের। রুই, কাতল, মৃগেল, পাঙাশ, তেলাপিয়া, শিংসহ বিভিন্ন মাছ থাকলেও ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছের দেখা মিলছে না বললেই চলে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
বর্তমান বাজারে পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়, তেলাপিয়া ২৩০ টাকা, শিং ৪৫০ টাকা, নদীর পোমা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং তুলার ডাঁটি ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছ কিনতে আসা ক্রেতা আব্দুস সালাম বলেন, “বাজারে এসে দেখি নদীর দু-একটা মাছ ছাড়া প্রায় সবই চাষের মাছ, দামও অনেক বেশি। ইলিশ কিনতে এসেছিলাম, কিন্তু পাইনি।”
পটুয়াখালী পাইকারি মাছের আড়তদার জব্বার ফকির বলেন, “দুই মাস নদীতে মাছ ধরা বন্ধ ছিল। এখন আবার সমুদ্রেও ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা থাকায় সরবরাহ কমে গেছে, তাই দাম বেড়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে বাজার স্বাভাবিক হবে।”
পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে নদীতে কিছু মাছ ধরা পড়লেও সমুদ্রের নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে ইলিশসহ অন্যান্য মাছের সরবরাহ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।