
হিমবাহ ধসে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৫২ জনে দাঁড়িয়েছে। ভয়াবহ এই দুর্যোগের চার দিন পরও নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ। ফলে প্রাণহানি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
রোববার (৩০ আগস্ট) স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ) ও পুলিশ এসব তথ্য জানায়।
নেপাল পুলিশের হিসাবে, এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৫০২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫৮৯ জন বিদেশি নাগরিক। এ ছাড়া ৮ হাজার ১৮৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযানে প্রায় ২০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী কাজ করছেন।
নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, ২৬১ জন বিদেশি নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো ৩২০ পর্যটকের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতে ভূমিধসে ১৬ জন নিহত হয়েছেন। সেখানে এখনো ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ২৩ দেশের ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৫ জন ব্রিটিশ নাগরিক।
নেপালি কর্তৃপক্ষও ৩৩ জন ব্রিটিশ নাগরিক নিখোঁজ থাকার কথা জানিয়েছে। তবে তিব্বতমুখী সীমান্ত পারাপারের পথে থাকা এসব ব্রিটিশ নাগরিকের মধ্যে কতজন চীনের তালিকায় রয়েছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
চীনের কঠোর নিয়ন্ত্রণের কারণে তিব্বতের প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে, নতুন করে বন্যার আশঙ্কা নিয়েও সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্যা পূর্বাভাস ও দুর্যোগ ঝুঁকি গবেষক জেফ দা কস্তার মতে, আকস্মিক বন্যার ফলে ধ্বংসাবশেষ বিভিন্ন নদীর প্রবাহ আটকে দিয়ে উজানে নতুন হ্রদ তৈরি করেছে। এসব প্রাকৃতিক বাঁধ বা হ্রদ ভেঙে গেলে দ্বিতীয় দফায় বন্যা দেখা দিতে পারে।
তিনি বলেন, প্রথম বন্যার তুলনায় ছোট হলেও নতুন কোনো বন্যা হলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় তা গুরুতর বিপর্যয় তৈরি করতে পারে। তাই হ্রদ ও প্রাকৃতিক বাঁধগুলোর পরিবর্তন এবং কোথায় সেগুলো ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, উজানের পরিস্থিতি সীমান্তের ওপারের মানুষকে দ্রুত প্রভাবিত করতে পারে। এ কারণে চীন ও নেপালের মধ্যে দুর্যোগসংক্রান্ত তথ্য দ্রুত আদান-প্রদান গুরুত্বপূর্ণ।
জেফ দা কস্তা আরও জানান, জলবায়ু পরিবর্তন হিমবাহ, পারমাফ্রস্ট ও হিমালয়ের ঢালের স্থিতিশীলতায় পরিবর্তন আনছে। তবে আরও বিশ্লেষণ ছাড়া এবারের দুর্যোগকে সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের ফল বলা যাবে না।
সূত্র: বিবিসি, এনডিটিভি