ঢাকামঙ্গলবার , ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

নেত্রকোনার হাওরে পালিত হলো বিশ্ব জলাভূমি দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬ ৩:৩৯ অপরাহ্ণ । ৩৩ জন

জলাভূমি ও ঐতিহ্যগত জ্ঞানের সমন্বয়ে হাওরের প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষা এবং পরিবেশ সংরক্ষণের আহ্বান জানিয়ে নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো বিশ্ব জলাভূমি দিবস।

দিবসটি উপলক্ষে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের সহযোগিতায় গ্রিন কোয়ালিশন কমিটি নেত্রকোনার ধনুনদী, রোয়াইল বিল ও ডিঙ্গাপোতা হাওর এলাকায় নানা কর্মসূচির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী ওহিদুর রহমানসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কৃষক, জেলে, যুবক ও পরিবেশকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

এবারের প্রতিপাদ্য ছিল- “জলাভূমি ও ঐতিহ্যগত জ্ঞান: আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য উদযাপন”। অংশগ্রহণকারীরা হাওর অঞ্চলের নদী, খাল, বিল ও জলাভূমি সুরক্ষার দাবিতে ব্যানার, ফেস্টুন ও স্লোগান লিখে ‘প্রকৃতিবন্ধন’ কর্মসূচি পালন করেন। ফেস্টুনে ছিল- “জলাভূমি প্রকৃতির কিডনি”, “জলাভূমি বাঁচাই, ঐতিহ্য রক্ষা করি”, “নদী-খাল-বিল-হাওর আমাদের পরিচয়”, “প্রথাগত জ্ঞানে জলাভূমি রক্ষা করি”, “হাওরের পরিবেশ বাঁচাই, মাছ রক্ষা করি”।

বক্তারা বলেন, জলাভূমি শুধুই মাছ আহরণের স্থান নয়; এটি একটি ‘মাদার ফিশারি’, যা বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষা করে। নদী, খাল ও হাওর স্থানীয় ও আঞ্চলিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, বৃষ্টিপাতের ভারসাম্য, মিঠাপানির আধার সৃষ্টি, ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরাট, কার্বন ধারণ, জলবায়ু অভিঘাত প্রশমন এবং মানুষের জীবন-জীবিকার সার্বিক ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ডিঙ্গাপোতা হাওরে হিজল ও করচ গাছের সারি জলাভূমিকে নান্দনিক করেছে। এছাড়া নল-খাগড়া, দুধিলতা, নীল শাপলা, পানিফল, শোলা, হেলঞ্চা, শতমূলি, শীতলপাটি, স্বর্ণলতা ও বনতুলসীসহ দুই শতাধিক উদ্ভিদ প্রজাতি এবং নানা প্রজাতির দেশীয় মাছ এই হাওরের জীববৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করেছে।

বক্তারা আরও জানান, নদী, খাল, বিল ও হাওর বিলুপ্তির ফলে প্রাকৃতিক মাছের বৈচিত্র্য দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। এতে জেলে সম্প্রদায় জীবিকাগত ঝুঁকির মুখে পড়ছে এবং মানুষ ক্রমেই চাষকৃত মাছের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। গবেষণা অনুযায়ী, ১৭শ শতক থেকে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৯০ শতাংশ জলাভূমি বিপর্যয়ের শিকার হয়েছে, যা বনভূমির তুলনায় তিনগুণ দ্রুত হারিয়েছে।

অতএব, বক্তারা জাতীয় ও বৈশ্বিক পর্যায়ে জলাভূমি সংরক্ষণ, পুনরুদ্ধার এবং ঐতিহ্যগত জ্ঞানের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।