তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য শুধু সরকারকে দোষারোপ নয়, কোম্পানিগুলোর দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতেও জোর দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য নীতি বিশ্লেষক ও পরিবেশ আইনজীবী সৈয়দ মাহবুবুল আলম তাহিন।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন অধ্যাদেশ-২০২৫ এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিয়ে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের (এনটিসি) আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সৈয়দ মাহবুবুল আলম তাহিন বলেন, “আমরা অনেক আইনের এক্সপেক্টেশন করি। এই আইন ২০০৫ সালে প্রণীত হলেও এর প্রকৃত প্রভাব দেখতে ২০১৭ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। এখনই হয়তো তৎক্ষণাৎ ফলাফল পাওয়া যাবে না, তবে ২০৪০ সালের প্রজন্মের জন্য বড় পরিবর্তন আসবে যদি আইনটি সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হয়।”
তিনি আরও বলেন, আইনটি মূলত মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণের জন্য এবং এর ১৮টি সেকশনের মধ্যে ১০টি কোম্পানির দায়বদ্ধতার ওপর ফোকাস করে। “নাটক, সিনেমা বা ওটিটি-তে ধূমপানের দৃশ্য দেখানো হচ্ছে; এটি কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়, বরং এটি পরিকল্পিত, কোটি কোটি ডলারের বিনিয়োগের মাধ্যমে পরিচালিত ক্রিমিনাল অফেন্স। তাই আইন বাস্তবায়নের সময় শুধু সরকারি সংস্থা নয়, এই ধরনের অপরাধকেও সামনে আনা আবশ্যক।”
তাহিন সড়ক পরিবহন আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধনের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “সড়ক পরিবহন আইনের ৪৯ ধারা অনুযায়ী ট্রাফিক, ড্রাইভার ও যাত্রীদের ধূমপান নিষিদ্ধ করা যেতে পারে। পুলিশ এই আইনের অধীনে ডিজিটালি অন-দ্য-স্পট ফাইন করার ক্ষমতা পেলে, ধূমপান নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।”
এছাড়াও তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেন, যথেষ্ট প্রশিক্ষণ প্রদান করতে যাতে ৭০০-র মতো অথরাইজড অফিসারদের কো-অর্ডিনেটেড উদ্যোগের মাধ্যমে আইন কার্যকর করা যায়। তাহিন বলেন, “আইনের ১০টি সেকশন কোম্পানির দায়বদ্ধতার ওপর কেন্দ্রিত। শুধু সরকারকে দোষারোপ নয়, যারা মানুষকে ধূমপানে প্ররোচিত করছে, তাদের কথাও সামনে আনতে হবে।”
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপদেষ্টা মিজ নূরজাহান বেগম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান, বিশেষ সহকারী। সভাপতিত্ব করেন সচিব মো. সাইদুর রহমান, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ।


