
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে উদ্বেগজনক হারে। প্রতিদিন বাড়ছে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা, আর সেইসঙ্গে বাড়ছে হাসপাতালের চাপ। বর্তমানে জেলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে রোগী ভর্তি এতটাই বেড়েছে যে, অনেক রোগীকে শয্যা না পেয়ে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
শুক্রবার (২৭ জুন) হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৩২ জন ডেঙ্গু রোগী। এর মধ্যে পুরুষ ৬ জন, নারী ১৯ জন এবং শিশু ৭ জন।
গত ১০ দিনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ২২৪ জন। এর মধ্যে অনেকেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন, আবার গুরুতর অবস্থায় কিছু রোগীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাসুদ পারভেজ জানান, “বৃষ্টির কারণে জুন-জুলাই মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। শহরের পিটিআই, আরামবাগ, বালুবাগান, মিস্ত্রিপাড়া এলাকায় রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।” তিনি আরও বলেন, “রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতালের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত ওষুধ ও সরঞ্জাম মজুদ রাখা হয়েছে, চিকিৎসাসেবা দিতে কোনো ঘাটতি নেই।”
রোগীর চাপ সামাল দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে একটি আলাদা ডেঙ্গু কর্নার চালু করেছে। তবে তাতেও চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসা কর্মীদের।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন নতুন নতুন মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন। সব বয়সী মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হওয়ায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ডা. মাসুদ পারভেজ ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “জমে থাকা পানি সরান, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করুন এবং রাতে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করুন।”
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে, না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।