ঢাকাবুধবার , ২২ জুলাই ২০২৬
  1. সর্বশেষ

টানা বর্ষণে আব্দুলপুরে চারা খাতে কৃষকদের কোটি টাকার ক্ষতি

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ জুলাই ২০২৬, ১১:০৩ সকাল

Link Copied!

টানা বর্ষণে যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের আব্দুলপুরের সবজির চারা উৎপাদনকারী কৃষকরা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। জলাবদ্ধতায় প্রায় ৭০ বিঘা জমির বাঁধাকপি, ফুলকপি, বেগুন, টমেটো ও মরিচের অধিকাংশ চারা এবং সদ্য বপন করা বিপুল পরিমাণ বীজ নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষকদের দাবি, এতে এক কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠজুড়ে চারা বেড খালি পড়ে আছে। কোথাও কিছু চারা টিকে থাকলেও অতিরিক্ত পানিতে গোড়া পচে যাওয়ায় সেগুলোও বাঁচার সম্ভাবনা কম। অনেক কৃষক নতুন করে বীজ বপনের প্রস্তুতি নিলেও প্রয়োজনীয় মূলধনের অভাবে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, আব্দুলপুরে চার দশকের বেশি সময় ধরে বাণিজ্যিকভাবে সবজির চারা উৎপাদন হচ্ছে। প্রতিবছর এখান থেকে প্রায় ১৫ কোটি টাকার চারা দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। তবে দেশের অন্যতম বড় এই চারা উৎপাদন কেন্দ্রের কৃষকরা এখনও সরকারি প্রণোদনা, বিনামূল্যের বীজ, সার কিংবা কীটনাশক সহায়তার আওতায় আসেননি।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ, অধিকাংশই এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে চারা উৎপাদন করেছিলেন। কিন্তু চারা ও বীজ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখন ঋণের কিস্তি পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা জানান, মাঠের পানি নিষ্কাশনের জন্য থাকা অপ্রশস্ত কালভার্টের কারণে প্রতিবছরই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। দ্রুত একটি বড় কালভার্ট নির্মাণ, সরকারি প্রণোদনা এবং সহজ শর্তে কৃষিঋণের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

চাষি জাকির হোসেন জানান, তার ৯০টি চারা বেডের অধিকাংশই পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষক আশরাফুল ইসলামের প্রায় দুই লাখ টাকা এবং জাহাঙ্গীর আলম ও নজরুল ইসলামের আড়াই লাখ টাকা করে ক্ষতি হয়েছে। চারা উৎপাদক আসাদুজ্জামান বলেন, ব্যাংক ঋণের জটিলতার কারণে বাধ্য হয়ে এনজিও থেকে ঋণ নিতে হয়েছে। এবার চারা ও বীজ নষ্ট হওয়ায় ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আবারও ঋণ নেওয়ার কথা ভাবছেন।

এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিতে বিভিন্ন ধরনের সবজির চারা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিকল্প ফসল আবাদ এবং ক্ষতি দ্রুত কাটিয়ে ওঠার বিষয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন