তামাকের বহুমাত্রিক ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)-এ নিয়মিত প্রচার করা হচ্ছে তামাকবিরোধী তথ্যচিত্র। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের উদ্যোগে এবং ভাইটাল স্ট্রাটেজিস-এর কারিগরি সহায়তায় নির্মিত এসব জনসচেতনতামূলক বার্তা (পিএসএ) টেলিভিশনের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সম্প্রচারিত হচ্ছে।

চলমান এই ক্যাম্পেইনের আওতায় তিনটি পৃথক ভিডিওচিত্র—‘ই-সিগারেট’, ‘ধূমপান ত্যাগ’ এবং ‘তামাক চাষ ও পরিবেশ’—প্রচার করা হচ্ছে। Stop টোব্যাকো বাংলাদেশ-এর মাধ্যমে ভিডিওগুলো ফেসবুক, ইউটিউব, লিংকডইন, ইনস্টাগ্রাম ও এক্স (সাবেক টুইটার)-সহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা জনসাধারণ ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে তামাকের স্বাস্থ্যগত, পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক ক্ষতির বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

‘ই-সিগারেট’ বিষয়ক ভিডিওতে ভেপিংয়ের স্বাস্থ্যঝুঁকি, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এর বাড়তে থাকা আসক্তির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ই-সিগারেট কোনোভাবেই প্রচলিত সিগারেটের নিরাপদ বিকল্প নয়। ‘ধূমপান ত্যাগ’ শিরোনামের ভিডিওতে ধূমপান ছাড়ার পর শরীরে ইতিবাচক পরিবর্তন এবং দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাসের বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে। অন্যদিকে ‘তামাক চাষ ও পরিবেশ’ ভিডিওতে তামাক চাষের ফলে কৃষিজমির উর্বরতা হ্রাস, বন উজাড়, প্রাকৃতিক সম্পদের অপচয় এবং পরিবেশ দূষণের মতো গুরুতর প্রভাবগুলো তুলে ধরা হয়েছে।
ভিডিওগুলো প্রতিদিন দর্শকপ্রিয় সময় (পিক আওয়ার) বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)-এ প্রচারের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নিয়মিত প্রচার করা হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাও নিজ নিজ প্ল্যাটফর্মে এসব প্রচারণা শেয়ার করছে, যা সার্বিকভাবে তামাকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
এ প্রসঙ্গে ভাইটাল স্ট্রাটেজিস-এর জ্যেষ্ঠ পরামর্শক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ তামাক নিয়ন্ত্রণে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন। তিনি নেশামুক্ত প্রজন্ম গড়ে তুলতে ‘তামাকমুক্ত বাংলাদেশ’ বাস্তবায়নে সরকার, নাগরিক সমাজ ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


