কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) শনিবার (৩ জানুয়ারি) চিনি, এলপিজি, সয়াবিন ও পাম তেলের বাজারে অস্বাভাবিক ও অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা এই মূল্য কারসাজিতে জড়িত সিন্ডিকেট ও অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
ক্যাবের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে এই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ধারাবাহিকভাবে বেড়ে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা জীবনযাত্রায় মারাত্মক চাপ তৈরি করছে। বিশেষত চিনির বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে প্রভাবশালী চক্র দাম নিয়ন্ত্রণ করছে। সাম্প্রতিক এক সপ্তাহে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চিনির দাম বেড়েছে অন্তত ১০ টাকা।
সয়াবিন ও পাম তেলের দামও প্রতি লিটারে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের খুচরা দাম বেড়েছে ১২.৮৫ শতাংশ। এছাড়া এলপিজির ক্ষেত্রেও অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।
ক্যাব অভিযোগ করেছে, রমজান ও অন্যান্য আসন্ন উপলক্ষকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেট চক্র পরিকল্পিতভাবে বাজারে কারসাজি করছে। বাজারে চলমান মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারদর ও প্রকৃত সরবরাহের কোনো যৌক্তিক সম্পর্ক নেই।
সংগঠনটি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি ৭ দফা দাবি জানিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
১. মিল পর্যায়ে চিনি উৎপাদন ও সরবরাহের প্রকৃত তথ্য যাচাই।
২. সিন্ডিকেট ও মজুতদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা।
৩. ভোজ্যতেলের বাজারে আন্তর্জাতিক দর ও স্থানীয় মূল্যের যৌক্তিক সামঞ্জস্য।
৪. পাইকারি ও খুচরা মূল্যের অযৌক্তিক ব্যবধান হ্রাস।
৫. এলপিজি নির্ধারিত দামে বিক্রি নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়।
৬. এলপিজি আমদানিকারক ও পরিবেশকদের মজুত ও সরবরাহের ওপর কঠোর নজরদারি।
৭. নির্বাচন বা অন্যান্য অজুহাতে বাজার তদারকি শিথিল না করার নির্দেশনা।
ক্যাব সতর্ক করে জানিয়েছে, অবিলম্বে কঠোর ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারের অস্থিরতা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তারা প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে, সরকার দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে ভোক্তাদের ন্যায্যমূল্য ও স্বস্তি নিশ্চিত করবে।


