ঢাকাসোমবার , ৩ নভেম্বর ২০২৫
  • অন্যান্য

চিড়িয়াখানায় প্রাণীর প্রতি মানবিক আচরণের আহ্বান ফরিদা আখতারের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নভেম্বর ৩, ২০২৫ ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ । ১৫৯ জন

চিড়িয়াখানায় প্রাণীগুলোর প্রতি মানবিক আচরণ করা হয় না উল্লেখ করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, “জাতীয় চিড়িয়াখানাকে শুধু রাজস্ব বা বিনোদনের মানদণ্ডে বিচার করা উচিত নয়। এটি দেশের বিশেষ পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।”

রোববার (২ নভেম্বর) রাজধানীর ফার্মগেটে বাংলাদেশ তুলা উন্নয়ন বোর্ডের হলরুমে ‘বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার বর্তমান অবস্থা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মশালাটি আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।

ফরিদা আখতার বলেন, “চিড়িয়াখানার বর্তমান সংকট বহু বছরের। এর সমাধান এককভাবে কারও পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য অধিদপ্তর, চিড়িয়াখানার কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।” তিনি জানান, চিড়িয়াখানার উন্নয়নে শিগগিরই অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হবে, যা নিয়মিত বৈঠক করে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করবে।

উপদেষ্টা আরও বলেন, “প্রাণী সংরক্ষণের পরিকল্পনা শুধু চিড়িয়াখানার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। কিছু প্রাণীকে তাদের উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে স্থানান্তরের বিষয়টিও বিবেচনা করা প্রয়োজন।” এছাড়া যেসব প্রাণীর স্বাভাবিক মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এসেছে, সেগুলোকে রাখা বা স্থানান্তর করা বিষয়ে আলোচনা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

গবেষণার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “প্রাণীদের বাইরে পাঠিয়ে গবেষণা করা হবে না। গবেষকদের চিড়িয়াখানায় এসেই গবেষণা করতে হবে, যাতে প্রাণীরা নিজেদের স্বাভাবিক পরিবেশে থাকে।”

কর্মশালায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের। তিনি বলেন, “প্রাণীগুলোকে উপযুক্ত পরিবেশে রাখার ক্ষেত্রে আমরা জনবল সংকটে ভুগছি। আজকের কর্মশালা থেকে পাওয়া প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।”

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. বয়জার রহমান এবং মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চিড়িয়াখানার পরিচালক ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার। আলোচনায় অংশ নেন চিড়িয়াখানার সাবেক কিউরেটর ডা. এ বি এম শহীদ উল্লাহ, শেরে-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তৌহিদুর রহমান প্রমুখ।