ঢাকাসোমবার , ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ

চাঁদপুরের মেঘনায় অবাধে পোনা নিধন, হুমকিতে দেশীয় মাছের ভবিষ্যৎ

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
১১ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৪৩ সকাল

Link Copied!

চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে নির্বিচারে ধরা হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির ছোট মাছ ও রেণু পোনা। প্রতি বছর শীত মৌসুম এলেই এক শ্রেণির অসাধু জেলে অবৈধ ও নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে মাছের পোনা নিধনে নেমে পড়ে। এতে দেশীয় মাছের উৎপাদন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। তবে মৎস্য বিভাগ বলছে, ক্ষতিকর বেহুন্দি ও অন্যান্য নিষিদ্ধ জাল অপসারণে বিশেষ যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মেঘনা উপকূলীয় এলাকার জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নদীর অধিকাংশ মাছ শীত মৌসুমের আগেই ডিম ছাড়ে। ফলে শীত মৌসুমে ইলিশ, চিংড়ি, পাঙাশ, বেলে, আইড়, রিটা, পাবদা, পোয়া, চেউয়া, টেংরাসহ অন্তত ৩৫ প্রজাতির মাছের পোনায় ভরপুর থাকে নদী। কিন্তু এ সময়ই কিছু অসাধু জেলে বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে নির্বিচারে এসব পোনা নিধন করছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সদর উপজেলার লালপুর, রাজরাজেশ্বর, চিরারচর, পুরানবাজার, রনাগোয়াল, বহরিয়া, হরিণা, আখনের হাট ও হাইমচর কাটাখালি এলাকায় রাতের বেলায় ছোট মাছ ধরা হয়। দিনের বেলায় এসব জাল ও নৌকা নদীর পাড়ে এনে রাখা হয়। ভোর থেকে শুরু হয় পাইকারি বেচাকেনা। পরে এসব ছোট মাছ বাজার ও শহরের অলিগলিতে কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সদর উপজেলার হরিণা ফেরিঘাট এলাকার প্রবীণ একাধিক জেলে জানান, জোয়ার-ভাটার সময় বুঝে মধ্যরাতে পাতাজাল, বেহুন্দি জাল ও মশারি জালসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ জাল নিয়ে নদীতে নামেন জেলেরা। এসব জালে শুধু মাছের পোনা নয়, কাঁকড়াসহ নানা উপকারী জলজ প্রাণীও ধরা পড়ে। ধরা পোনা পুরানবাজারসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে নদীর পাড়েই দাদনদারদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত শত শত নৌকায় হাজারো জেলে এভাবে পোনা নিধনে যুক্ত থাকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুরানবাজার ও রনাগোয়াল এলাকায় ‘বেলে গুড়া’ বা ‘সাগরের পোনা’ নামে বিভিন্ন মাছের পোনা বেচাকেনা করা হচ্ছে। রনাগোয়াল এলাকার একটি স্থানে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫টি নৌকা ভিড়ে এবং প্রায় ৫০ থেকে ৬০ মণ মাছ কেনাবেচা হয় বলে স্থানীয়দের দাবি। এ কাজে জড়িত একটি চক্র প্রশাসনকে ম্যানেজ করার কথা প্রকাশ্যে বলে বেড়াচ্ছে-এমন অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয় জেলেরা।

পুরানবাজার ও রনাগোয়াল এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলে জানান, শীত মৌসুমে পোনা ধরতে হলে আগে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টদের ‘ম্যানেজ’ করতে হয়। এরপর জোয়ার-ভাটার সময় বুঝে নিষিদ্ধ জাল নিয়ে নদীতে নামেন তারা।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শবেবরাত সরকার বলেন, “নির্বিচারে পোনা নিধনের ফলে মাছের উৎপাদন ক্রমেই কমে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে নদীগুলো মাছশূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

এ বিষয়ে সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, “বিষয়টি আমরা অবগত। নিষিদ্ধ জাল অপসারণে নিয়মিত যৌথ অভিযান চলছে। গত সপ্তাহে একাধিক অভিযানে কারেন্ট জাল, বেহুন্দি, চরঘেরা ও মশারি জাল জব্দ করে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি—এই দুই মাস বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

তথ্যসুত্র: ঢাকা মেইল

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

আগস্টের তিন ক্যাম্পেইনের বিজয়ীদের পুরস্কৃত করল উপায়

হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৯০৫

সাতক্ষীরায় বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিহত

ডিআর কঙ্গোতে ইবোলার সংক্রমণ ৭ হাজার ছাড়াল, মৃত্যু ৩৩৯৮

চুয়াডাঙ্গায় দ্রুতগতির পিকআপভ্যানের ধাক্কায় বৃদ্ধা নিহত

ময়মনসিংহে ট্রাকচাপায় অন্তঃসত্ত্বা নারী নিহত

খুলনা-ঢাকা মহাসড়কে বাসের ধাক্কায় সাংবাদিক নিহত

আগামী পাঁচ দিনজুড়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির পূর্বাভাস

ইন্দোনেশিয়ায় ২৪৩ যাত্রী-ক্রু বহনকারী ফেরির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

উদ্বোধনী দিনে কৃষক কার্ডের প্রণোদনা পাবেন ১ লাখ ১০ হাজার কৃষক

রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের আশা

সকল জেলা-উপজেলায় ডায়ালাইসিস সেবা চালু করবে সরকার