ঢাকাবুধবার , ৭ অক্টোবর ২০২৬
  1. সর্বশেষ

গ্রিনহাউস গ্যাস বাড়ায় নিউজিল্যান্ডে তাপপ্রবাহ ও হিমবাহ গলনের শঙ্কা

প্রতিবেদক
বিপ্লব হোসাইন
৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪০ বিকাল

Link Copied!

গ্রিনহাউস গ্যাসের মাত্রা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোয় নিউজিল্যান্ডে আগামী দিনগুলোতে ঘন ঘন ও তীব্র তাপপ্রবাহ, ক্ষতিকর ঝড় ও ঘূর্ণিঝড় এবং হিমবাহের ব্যাপক গলনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দেশটির নতুন এক জলবায়ু প্রতিবেদনে ক্রমবর্ধমান জলবায়ু চাপের কারণে পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও জনজীবনের ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তুলে ধরা হয়েছে।

বুধবার প্রকাশিত ‘আওয়ার অ্যাটমোস্ফিয়ার অ্যান্ড ক্লাইমেট ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। শহর, পরিবেশ, অঞ্চল ও পরিবহন বিষয়ক মন্ত্রণালয় (Mcert) এবং স্ট্যাটস এনজেডের তিন বছর অন্তর প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বায়ু, বায়ুমণ্ডল ও জলবায়ু, মিঠা পানি, ভূমি এবং সামুদ্রিক পরিবেশ-এই পাঁচটি ক্ষেত্রের পরিসংখ্যান, তথ্য ও গবেষণা একত্র করে দেশের পরিবেশ পরিস্থিতির সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯০৯ সালে তথ্য সংরক্ষণ শুরুর পর থেকে নিউজিল্যান্ডের বার্ষিক গড় তাপমাত্রা ১ দশমিক ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। রেকর্ড অনুযায়ী, উষ্ণতম ১০টি বছরের মধ্যে সাতটিই ছিল গত এক দশকের মধ্যে।

Mcert-এর প্রধান বিজ্ঞান উপদেষ্টা ড. অ্যালিসন কলিন্স বলেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রবল সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে এমন অনেক সূচক এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তাঁর মতে, তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার সংখ্যায় ছোট মনে হলেও এটি একটি উল্লেখযোগ্য মৌলিক পরিবর্তন, যার প্রভাব প্রকৃতি, সমাজজীবন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর পড়ছে।

সংকুচিত হচ্ছে হিমবাহ

জলবায়ু উষ্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের হিমবাহগুলো দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে। দেশটিতে প্রায় ৩ হাজার হিমবাহ রয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালে এসব হিমবাহের মোট আয়তন ছিল প্রায় ৫৬ ঘনকিলোমিটার, যা ২০২৩ সালে কমে ৩০ ঘনকিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে।

ভবিষ্যতে হিমবাহের সংকোচন আরও বাড়ার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কম নিঃসরণের ‘নিম্ন জলবায়ু পরিস্থিতি’তে ২১০০ সালের মধ্যে হিমবাহের আয়তন ১৪ থেকে ৮৬ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। আর উচ্চ নিঃসরণের ‘উচ্চ জলবায়ু পরিস্থিতি’তে এই সংকোচনের হার ৬৯ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

কলিন্স এ পরিস্থিতিকে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

রেকর্ড উচ্চতায় গ্রিনহাউস গ্যাস

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউজিল্যান্ডের বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের ঘনত্বও রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছেছে। ১৯৭২ সালে দেশটিতে পর্যবেক্ষণ শুরুর পর থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা ৩০ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৫ সালে মিথেনের ঘনত্বও সামান্য বেড়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অতিরিক্ত গ্রিনহাউস গ্যাসের প্রভাব তাপমাত্রা বৃদ্ধি, মহাসাগর ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন এবং আরও তীব্র চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলোর মাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে।

বাড়বে তাপপ্রবাহ

দেশজুড়ে তাপপ্রবাহের সংখ্যা, স্থায়িত্ব ও তীব্রতা বাড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে। ২০৫০ সালের মধ্যে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা থাকা দিনের সংখ্যাও বাড়তে পারে।

এর ফলে মানুষের মধ্যে তাপজনিত বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি, শারীরিক অসুস্থতা, রোগব্যাধি ও মানসিক চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

একই সঙ্গে সামুদ্রিক তাপপ্রবাহও আরও প্রকট হয়ে উঠছে। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় নিউজিল্যান্ডের আশপাশের মহাসাগরগুলো ৩৪ শতাংশ দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে। এর সঙ্গে সামুদ্রিক স্পঞ্জের ব্যাপক ব্লিচিং, ‘সাউদার্ন বুল কেল্প’ নামের এক ধরনের সামুদ্রিক শৈবালের মৃত্যু, বড় পরিসরে মাছ আটকা পড়ে মারা যাওয়া এবং পেঙ্গুইনের মৃত্যুর মতো ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাড়ছে ঝড়-ঘূর্ণিঝড় ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতার ঝুঁকি

ক্রমাগত উষ্ণায়নের ফলে নিউজিল্যান্ডে জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এমন ধ্বংসাত্মক ঝড় ও ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা বাড়ছে। একই সঙ্গে খরা বিভিন্ন প্রজাতি ও কৃষি শিল্পকে প্রভাবিত করতে পারে।

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি অবকাঠামো ও বসতবাড়ির ক্ষতির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি মাওরি সম্প্রদায়ের কাছে সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে প্রবেশের সুযোগও কমে যেতে পারে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘূর্ণিঝড় গ্যাব্রিয়েল এবং ২০২৩ সালের অকল্যান্ডের বন্যার মতো তীব্র ঝড় নিউজিল্যান্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। এসব ঘটনায় প্রাণহানি, অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি এবং বিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

কলিন্স বলেন, নিউজিল্যান্ড তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল জলবায়ু পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল ও বিকশিত হয়েছিল। এখন সেই পরিস্থিতি পরিবর্তিত হতে শুরু করায় এর প্রভাব কী হতে পারে, তা-ই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন কেবল পরিবেশগত কোনো বিষয় নয়। এটি মানুষের গল্প। এটি অর্থনীতির গল্প।”

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

দখলমুক্ত মিরপুর-১০, ফুটপাতে ফিরেছে স্বস্তি

গ্যাসকে পেছনে ফেলে এশিয়ার জ্বালানি মানচিত্রে শীর্ষে এখন সৌরবিদ্যুৎ

সড়ক দুর্ঘটনায় তাৎক্ষণিক চিকিৎসায় ভূমিকা রাখছে স্বেচ্ছাসেবকরা

ল্যাবরেটরির নিঃসঙ্গ রাত থেকে বিজ্ঞানী কার্ল ডেইসারথের নোবেলের জয়

দেশে শব্দদূষণ কমাতে ১ লাখ ৩৯ হাজারের বেশি মানুষকে প্রশিক্ষণ

রাজশাহীতে ৪৮৯ মণ্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি, বরাদ্দ ২৮৯ টন চাল

মৎস্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি অপচয় বন্ধে জবাবদিহিতা নিশ্চিতের আহ্বান

২২ জেলায় গড়ে উঠছে ‘শিশু স্বর্গ’: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

দুর্গম এলাকার মানুষের স্বাস্থ্য-পরিচ্ছন্নতায় ইউনিলিভার-ফ্রেন্ডশিপের নতুন উদ্যোগ

শিশুদের শৈশব নিরাপদ ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার আহ্বান ডা. জুবাইদার

সৈকতে ইজিবাইকের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে নারী পর্যটকের মৃত্যু

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি দেখতে টুভালুতে বিশ্বনেতারা