ঢাকাশনিবার , ১১ এপ্রিল ২০২৬
  • অন্যান্য

ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ৪৪০ কোটি টাকার ঋণ দেবে এসএমই ফাউন্ডেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক
এপ্রিল ১১, ২০২৬ ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ । ৩৬ জন

দেশের মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (সিএমএসএমই) জন্য আরও প্রায় ৪৪০ কোটি টাকার ঋণ দেবে এসএমই ফাউন্ডেশন। ফাউন্ডেশনের রিভলভিং তহবিল থেকে ক্রেডিট হোলসেলিং কর্মসূচির আওতায় প্রায় ২৯৫ কোটি টাকা বিতরণ করা হবে, যেখানে একজন উদ্যোক্তা সর্বনিম্ন ১ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। এই ঋণের সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ শতাংশ।

এ লক্ষ্যে ১৫টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এসএমই ফাউন্ডেশন। পাশাপাশি Japan International Cooperation Agency (JICA)-এর সহায়তায় Bangladesh Infrastructure Finance Fund Limited (BIFFL)-এর সঙ্গে চুক্তির আওতায় কৃষিভিত্তিক শিল্প ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাত খাতে আরও ১৪৫ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হবে, যার সুদের হার ৯ শতাংশ। এই প্রকল্পে একজন উদ্যোক্তা সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে অংশীদার ১১টি ব্যাংক ও ৪টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীগণ চুক্তি স্বাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সভাপতিত্ব করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও শিল্পসচিব মো. ওবায়দুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসএমই ফাউন্ডেশনের পরিচালক পর্ষদ সদস্য নাসরীন ফাতেমা আউয়াল এবং বাংলাদেশ ব্যাংক-এর ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার। স্বাগত বক্তব্য দেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করার পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের অনুমোদন প্রাপ্তি সহজ করা হবে। তিনি আরও বলেন, এসএমই খাতের উন্নয়নে একটি কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এসএমই ফাউন্ডেশনকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ফাউন্ডেশন জানায়, ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণে কোনো জামানত নেওয়া হবে না। গ্রাহক পর্যায়ে ঋণ পরিশোধের সময়সীমা সর্বোচ্চ ৪ বছর, যেখানে ৬ মাসের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৪৮টি মাসিক কিস্তিতে পরিশোধ করা যাবে। মোট ঋণের ২৫ শতাংশ নারী উদ্যোক্তা এবং ২০ শতাংশ এসএমই ক্লাস্টারের উদ্যোক্তাদের মধ্যে বিতরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ন্যূনতম ৬০ শতাংশ ঋণ উৎপাদন খাতে বিতরণ করতে হবে এবং অবশিষ্ট অংশ সেবা ও ভ্যালুচেইন খাতে দেওয়া হবে, তবে ভ্যালুচেইন খাতে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশের বেশি ঋণ দেওয়া যাবে না।

অগ্রাধিকার খাত হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে-এসএমই সাব-সেক্টর, রপ্তানিমুখী ও আমদানি বিকল্প পণ্য উৎপাদন, আইসিটি ও প্রযুক্তিনির্ভর নতুন উদ্যোক্তা, নারী উদ্যোক্তা, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের উদ্যোক্তা, প্রবাসফেরত উদ্যোক্তা এবং বিভিন্ন ট্রেডবডি ও উদ্যোক্তা সংগঠনের সুপারিশপ্রাপ্ত উদ্যোক্তাদের।

এসএমই ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, ঋণ বিতরণ ও আদায় কার্যক্রম নিয়মিতভাবে মনিটরিং করা হবে এবং সরেজমিনে যাচাইয়ের মাধ্যমে সঠিক উদ্যোক্তাদের কাছে ঋণ পৌঁছানো নিশ্চিত করা হবে। তবে অনুৎপাদনশীল খাত যেমন মুদি দোকান, ওষুধ বিক্রেতা, হার্ডওয়্যার দোকান বা পরিবেশ দূষণকারী ব্যবসায় এই ঋণ দেওয়া হবে না।

উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠার পর থেকে ক্রেডিট হোলসেলিং কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১২ হাজার উদ্যোক্তার মধ্যে ১১০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ বিতরণ করেছে এসএমই ফাউন্ডেশন। বর্তমানে দেশের অর্থনীতিতে এসএমই খাতের অবদান প্রায় ৩০ শতাংশ এবং এ খাতে প্রায় ৩ কোটিরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে।