ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১ অক্টোবর ২০২৬
  1. সর্বশেষ

আফ্রিকায় পরিবেশগত দূষণে বাড়ছে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি

প্রতিবেদক
বিপ্লব হোসাইন
১ অক্টোবর ২০২৬, ১:০৪ বিকাল

Link Copied!

অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বা এএমআর (AMR) বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ। রোগজীবাণু যখন অ্যান্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে, তখন চিকিৎসায় এসব ওষুধের কার্যকারিতা কমে যায়। দীর্ঘদিন ধরে এএমআরকে মূলত মানবস্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদের সমস্যা হিসেবে দেখা হলেও, পরিবেশও এর বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

আফ্রিকায় এএমআরের পরিবেশগত দিকটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মানুষের বর্জ্য, হাসপাতাল ও চিকিৎসা বর্জ্য, শিল্পকারখানার বর্জ্য এবং কৃষি ও পশুপালনে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের ব্যবহারের মাধ্যমে রেজিস্ট্যান্ট জীবাণু ও রেজিস্ট্যান্স জিন পরিবেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদনকারী কারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য সরাসরি নদী বা জলাশয়ে পড়লে সেখানে থাকা ব্যাকটেরিয়া অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের সংস্পর্শে আসতে পারে। এতে পরিবেশে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধী জীবাণু ও রেজিস্ট্যান্স জিনের বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়।

হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা না করলেও একই ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এসব বর্জ্যের মাধ্যমে ওষুধের অবশিষ্টাংশ, রেজিস্ট্যান্ট জীবাণু এবং রেজিস্ট্যান্স জিন মাটি ও পানিতে পৌঁছাতে পারে।

কৃষি ও পশুপালনও এএমআর বিস্তারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। পশুপাখির চিকিৎসা এবং উৎপাদনে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের ব্যবহার এবং কৃষিতে এর প্রয়োগের ফলে প্রাণীর মলমূত্র ও কৃষিজমির পানির সঙ্গে রেজিস্ট্যান্ট জীবাণু নদী, খাল ও ভূগর্ভস্থ পানিতে পৌঁছাতে পারে। এর মাধ্যমে খাদ্যশৃঙ্খলেও এসব জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার দুর্বলতাও পরিবেশে এএমআর বিস্তারের ঝুঁকি বাড়ায়। মানুষের মলমূত্রের সঙ্গে থাকা ওষুধের অবশিষ্টাংশ ও রেজিস্ট্যান্স জিন যথাযথভাবে পরিশোধন না হলে তা পরিবেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। পরে এসব দূষণ কৃষিজমি ও পানির উৎসেও পৌঁছাতে পারে।

আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে বর্জ্য ও wastewater ব্যবস্থাপনার অবকাঠামোগত ঘাটতি থাকায় এ ধরনের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের সীমাবদ্ধতার কারণে দূষিত পানি মানুষের সংস্পর্শে আসার সুযোগ তৈরি হয়। এতে রেজিস্ট্যান্ট জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও এএমআর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বন্যা, খরা ও তাপমাত্রার পরিবর্তনের কারণে পানি ও পরিবেশের ওপর চাপ বাড়ে। এর ফলে দূষিত পানি ও বর্জ্যের বিস্তার এবং মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের মধ্যে জীবাণুর সংস্পর্শের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এ কারণে এএমআরকে শুধু চিকিৎসা বা অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মানুষের স্বাস্থ্য, প্রাণিসম্পদ, কৃষি ও পরিবেশ—সবগুলো খাতের সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে। পরিবেশে রেজিস্ট্যান্ট জীবাণুর বিস্তার কমাতে বর্জ্য ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ পানি এবং পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

বাসচাপায় কালীগঞ্জ পৌরসভার কর্মচারী নিহত

ইংল্যান্ডে ২০ লাখ মানুষ জানেন না, তাদের বাড়ি বন্যার ঝুঁকিতে

আফ্রিকায় পরিবেশগত দূষণে বাড়ছে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি

চলতি বছর ৪৩ লাখ কৃষক পাবেন কৃষক কার্ড

Recovery is an Ongoing Journey Toward a Healthy, Meaningful and Fulfilling Life

রিকভারি মানে সুস্থ ও পরিপূর্ণ জীবনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চলমান যাত্রা

কালীগঞ্জে বাসের ধাক্কায় পৌরসভার কসাইখানা পরিদর্শক নিহত

দেশের কোথাও বৃষ্টি, কোথাও শুষ্ক আবহাওয়ার পূর্বাভাস

প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা নতুন করে ভাবার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

কৃত্রিম এলপিজি সংকট তৈরি করলে ব্যবস্থা: জ্বালানি মন্ত্রী

অক্টোবরেও অপরিবর্তিত জ্বালানি তেলের দাম

সড়কের পাশে ময়লার স্তূপ, নাক-মুখ চেপে চলছেন হাজারো মানুষ