
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ছয় দফা দাবিতে রংপুরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বাংলাদেশ হেল্থ এসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশনের অন্তর্ভুক্ত স্বাস্থ্য সহকারীরা। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত রংপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
কর্মসূচিতে বক্তারা সরকারকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন— দাবি মানা না হলে দেশজুড়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু হবে, যার আওতায় বন্ধ থাকবে ইপিআইসহ সব কার্যক্রম।
ছয় দফা দাবির মূল বিষয়সমূহ:
১. নিয়োগবিধি সংশোধন করে শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক (বিজ্ঞান) সংযুক্ত করে ১৪তম গ্রেড প্রদান।
২. ইন-সার্ভিস ডিপ্লোমার মাধ্যমে ১১তম গ্রেডে উন্নীতকরণ।
৩. পদোন্নতির ক্ষেত্রে ধারাবাহিক উচ্চতর গ্রেড নিশ্চিতকরণ।
৪. পুরনো নিয়োগবিধি অনুযায়ী কর্মরতদের স্নাতক স্কেলে আত্মীকরণ।
৫. টাইম স্কেল ও উচ্চতর গ্রেড অন্তর্ভুক্ত করে পুনঃনির্ধারিত বেতন স্কেল।
৬. ইন-সার্ভিস ডিপ্লোমা সম্পন্নকারীদের সরাসরি ১১তম গ্রেডে অন্তর্ভুক্তি।
নেতৃত্বে থাকা বক্তারা যা বললেন:
বাংলাদেশ হেল্থ এসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশনের রংপুর বিভাগের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সমন্বয়ক মো. মাসুদার রহমান বলেন, “স্বাস্থ্য সহকারীদের দাবি দীর্ঘদিনের। সরকার যদি ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দাবি না মানে, তাহলে সারাদেশে ইপিআইসহ সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।”
রংপুর জেলা সভাপতি শাহ মো. শামিম হোসেন বলেন, “টিকাদান কার্যক্রম যেটি শিশুদের ১০টি প্রাণঘাতী রোগ থেকে রক্ষা করে, সেটি সম্পূর্ণভাবে স্বাস্থ্য সহকারীরা পরিচালনা করেন। কিন্তু তাদের কোনো টেকনিক্যাল পদমর্যাদা নেই। এটি একপ্রকার বৈষম্য।”
জেলা সাধারণ সম্পাদক মো. আনিস রহমান অভিযোগ করে বলেন, “স্বাস্থ্যখাতে আমাদের অবদান থাকলেও আমরা শুধু আশ্বাস পেয়েছি, বাস্তব কোনো অগ্রগতি হয়নি।”
স্বাস্থ্য সহকারীরা জানান, দেশে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সফল বাস্তবায়নে তাদের অবদান অনস্বীকার্য। অথচ তারা বছরের পর বছর বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছেন। তাদের বিশ্বাস, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২৬ হাজার স্বাস্থ্য সহকারীর ন্যায্য দাবি মেনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।
স্বাস্থ্য সহকারীদের এই আন্দোলন স্বাস্থ্যখাতের ভিত মজবুত করতে হলে সরকারকে অবিলম্বে তাদের দাবিগুলোর বাস্তবায়ন শুরু করতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।