
হৃদরোগ আর কেবল ধনী-গরিব বা বয়সভিত্তিক সমস্যা নয়; এটি সবার জন্য এক অদৃশ্য হুমকি। তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়ন্ত্রিত জীবনধারা এবং ইতিবাচক মানসিকতা হৃদরোগ প্রতিরোধে বড় অস্ত্র হতে পারে। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক হার্ট দিবস উপলক্ষে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত ‘মাতৃভূমি হার্ট কেয়ার’র আলোচনা সভা ও হেলথ ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা।
বক্তারা বলেন, হৃদরোগ চিকিৎসা শুধুমাত্র ওষুধ বা অস্ত্রোপচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একজন মানুষকে সুস্থ রাখতে হলে জীবনযাপনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। সঠিক খাবার গ্রহণ, দৈনন্দিন অভ্যাসের উন্নয়ন এবং ইতিবাচক মানসিকতা হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখে এবং দীর্ঘমেয়াদে রোগ প্রতিরোধে সহায়ক।
অনুষ্ঠানে বলা হয়, হৃদরোগ প্রতিরোধে ডাল, বাদাম, ফল, সবজি, অখণ্ড শস্য ও দেশি ফল খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। অপরদিকে, সাদা চাল, চিনি, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, কোমল পানীয়, জাঙ্ক ফুড ও তামাকজাত দ্রব্যকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও কৃতজ্ঞতা হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে, কিন্তু হিংসা, রাগ, লোভ ও অহংকার হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
মাতৃভূমি হার্ট কেয়ার আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো ইইসিপি বা এনহ্যান্সড এক্সটারনাল কাউন্টার পালসেশন, যা অস্ত্রোপচার ছাড়াই হৃদযন্ত্রে নতুন ধমনী তৈরি করে রক্ত সঞ্চালন উন্নত করতে সাহায্য করে।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মুহাম্মদ শহীদুল ইসলাম। প্রধান আলোচক হিসেবে মাতৃভূমি থার্ড কেয়ার লিমিটেডের চিফ কনসালটেন্ট ও সিইও ডক্টর এম এম রহমান বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অন্যান্য চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা।
ডা. এম এম রহমান বলেন, “আমরা মনে করি রোগ নয়, বরং রোগীকেই চিকিৎসা করতে হবে। খাদ্যাভ্যাসের সংশোধন, শরীরের প্রাকৃতিক ছন্দ স্বাভাবিক রাখা এবং মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। হৃদপিণ্ড মানবদেহের সবচেয়ে শক্তিশালী অঙ্গ; ব্যস্ত জীবনযাত্রা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান, মানসিক চাপ এবং অপর্যাপ্ত পরিশ্রমের অভাবে এটি ঝুঁকির মুখে পড়ছে।”
তিনি আরও বলেন, “হৃদযত্নের জন্য নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম, পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ, ধূমপান ও মাদক থেকে বিরত থাকা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
ডা. রহমান সরকারি উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, গণমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচার বাড়ানো, অফিসে স্বাস্থ্য কর্নার চালু করা এবং উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে উন্নত চিকিৎসা ও জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করা দরকার।