ঢাকাবুধবার , ৪ নভেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. জনস্বাস্থ্য

হাসপাতাল নেই ৬০ গ্রামে, অসুস্থ হলে আট ঘণ্টার নদীপথ পাড়ি

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ নভেম্বর ২০২৬, ১১:১৫ সকাল

Link Copied!

বান্দরবানের দুর্গম সীমান্তবর্তী বড় মদক এলাকায় প্রায় ১০ হাজার মানুষের বসবাস। অথচ বিশাল এই জনপদে নেই কোনো স্থায়ী সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র। হাম, টাইফয়েড, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগের প্রকোপ দেখা দিলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। গুরুতর অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসার জন্য দুর্গম নদীপথ পাড়ি দিয়ে থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছাতে সময় লাগে আট ঘণ্টারও বেশি। এতে বাড়ছে রোগীদের ভোগান্তি ও প্রাণহানির ঝুঁকি।

বান্দরবান জেলা শহর থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার এবং থানচি উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বড় মদক। পাহাড় ও নদীবেষ্টিত এই জনপদে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম নদীপথ। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে যোগাযোগব্যবস্থা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে জরুরি মুহূর্তে রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, থানচি উপজেলার রেমাক্রী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ছোট মদক ও বড় মদক এলাকায় ৬০টির বেশি গ্রামে প্রায় ১০ হাজার মানুষের বসবাস। অথচ এই বিশাল জনপদে নেই কোনো স্থায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্র কিংবা সহজ যোগাযোগব্যবস্থা। প্রাথমিক চিকিৎসার জন্যও স্থানীয় বাসিন্দাদের নির্ভর করতে হয় ওঝা, বৈদ্য ও কবিরাজদের ওপর। পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়লেও দ্রুত চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ না থাকায় দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে চিকিৎসাসেবা থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন রয়েছেন এ এলাকার মানুষ। হাম, টাইফয়েড ও ডায়রিয়ার মতো রোগে আক্রান্ত হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। ফলে সাধারণ রোগও অনেক সময় জটিল আকার ধারণ করে। জরুরি মুহূর্তে রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিতে দীর্ঘ সময় লাগায় বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি।

বড় মদকের বাসিন্দা মংমে মারমা, উসাইশৈ মারমা, উশৈওয়াং মারমা ও চপ্রুঅং মারমাসহ স্থানীয়রা জানান, গুরুতর অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রায় ৭০ কিলোমিটার দুর্গম নদীপথ পাড়ি দিয়ে থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিতে হয়। এতে আট ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে। দীর্ঘ এই যাত্রায় অনেক রোগীর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। গত মাসেও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

তাদের মতে, সাময়িক চিকিৎসা কার্যক্রম কিংবা বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ দিয়ে এলাকার দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্যসংকট দূর করা সম্ভব নয়। সীমান্তবর্তী ছোট মদক ও বড় মদকের মানুষের চিকিৎসার অধিকার নিশ্চিত করতে সেখানে একটি স্থায়ী সরকারি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা জরুরি।

রেমাক্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুইশৈথুই মারমা (রনি) বলেন, রেমাক্রী ও বড় মদক এলাকায় প্রতিবছর পানিবাহিত রোগসহ বিভিন্ন রোগের প্রকোপ দেখা দেয়। জরুরি চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার কারণে সংকটাপন্ন রোগীদের সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয় না।

তিনি আরও বলেন, চিকিৎসাসেবা থেকে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের জন্য বড় মদকে হাসপাতাল স্থাপন অত্যন্ত জরুরি। এ দাবিতে গত মাসে স্থানীয় বাসিন্দারা রেমাক্রী অথবা বড় মদক এলাকায় একটি সরকারি হাসপাতাল স্থাপনের জন্য থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে আবেদন করেছেন। হাসপাতালটি স্থাপন করা হলে বড় মদক, ছোট মদকসহ আশপাশের সীমান্তবর্তী এলাকার প্রায় ১০ হাজার মানুষ চিকিৎসাসেবা পাবেন।

এ বিষয়ে থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ওয়াহিদুজ্জামান মুরাদ বলেন, রেমাক্রী ইউনিয়নের দুর্গম ও গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী এলাকা বড় মদক। সেখানে হাসপাতাল স্থাপন করা হলে বুলুপাড়া, আন্ধারমানিক, ছোট মদক, বড় মদকসহ তিন্দু ইউনিয়নের আশপাশের দুর্গম এলাকার মানুষও দ্রুত চিকিৎসাসেবা পাবেন।

তিনি জানান, হাসপাতাল স্থাপনের দাবিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, হেডম্যান, পাড়াপ্রধান ও তরুণেরা স্বাস্থ্য বিভাগে আবেদন করেছেন। তাঁদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বড় মদকে হাসপাতাল স্থাপনের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত প্রস্তাব ও প্রয়োজনীয় চিঠি পাঠানো হয়েছে।

বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী জানান, বড় মদক এলাকায় হাসপাতাল স্থাপনের বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের পরিকল্পনা বিভাগের সঙ্গে কথা হয়েছে। সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করে হাসপাতাল স্থাপনের উপযুক্ত জায়গা নির্ধারণের পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, স্বাস্থ্য বিভাগের কনভেনার ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য লুসাই মং জানান, থানচির তিন্দু ইউনিয়নের কম্বো পাড়ায় ২০ শয্যার একটি হাসপাতাল নির্মাণের জন্য বিজিবি সেক্টর থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে রেমাক্রী ইউনিয়নের বড় মদক এলাকায় স্বাস্থ্য উপকেন্দ্র অথবা পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র স্থাপনের আবেদন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বেসরকারি সংস্থা গ্রিন হিল ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) অংশীদারত্বে বড় মদক এলাকায় একটি মিডওয়াইফারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের পক্ষ থেকেও মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সব মিলিয়ে দুর্গম বড় মদক এলাকায় ইউনিয়ন পরিবারকল্যাণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, হাসপাতাল স্থাপনের প্রস্তাব ও পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা কাটিয়ে পাহাড়ি এই সীমান্ত জনপদের প্রায় ১০ হাজার মানুষের জন্য নিশ্চিত করা হবে জরুরি ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা। তাদের দাবি, আর কোনো রোগীকে যেন চিকিৎসার জন্য আট ঘণ্টার দুর্গম নদীপথ পাড়ি দিতে না হয়।

তথ্যসুত্র: ঢাকা মেইল

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

চাঁদপুরে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারে ৬ যানবাহনকে জরিমানা

ঢাকায় শুষ্ক আবহাওয়া, কমতে পারে দিনের তাপমাত্রা

বাংলাদেশে জীববৈচিত্র্য ও জলবায়ু রক্ষায় ১২ সংস্থার সঙ্গে ইউএনডিপির চুক্তি

সড়ক দুর্ঘটনার আচরণগত ঝুঁকি নিরসনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাথে মতবিনিময় সভা

২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৬ মৃত্যু

ভিভো ভি৮০: নতুন রং ও নতুন ডিজাইনে আসছে নতুন চমক

vivo V80: Arriving in a New Colour with a New Design

ক্রোনস ও আলসারেটিভ কোলাইটিস: দুই রোগের পার্থক্য, লক্ষণ ও চিকিৎসা

জনমিতিক লভ্যাংশ কাজে লাগাতে বাংলাদেশের হাতে দুই দশক: বিশ্বব্যাংক

Xiaomi Unveils REDMI 17 5G Featuring a Snapdragon 5G Processor

স্ন্যাপড্রাগন ফাইভজি প্রসেসরসহ রেডমি ১৭ ফাইভজি উন্মোচন করল শাওমি

আগামী গ্রীষ্মের আগে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে জাতীয় গ্রিডে: প্রধানমন্ত্রী