
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে জ্বালানি ও সরবরাহ সংকটের প্রভাবে বাংলাদেশে ইউরিয়া সারের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে দেশের খাদ্য উৎপাদন মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)।
ডব্লিউএফপির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ তার ইউরিয়া সারের প্রায় ৮০ শতাংশ সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে আমদানি করে। বর্তমানে দেশে অক্টোবর পর্যন্ত চাহিদা মেটানোর মতো ইউরিয়ার মজুত থাকলেও পরবর্তী সময়ে সরবরাহ সংকট দেখা দিতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে ইউরিয়ার দাম ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে গ্যাস সংকটের কারণে বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচটি ইউরিয়া কারখানার মধ্যে তিনটি উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে।
ডব্লিউএফপি আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছে, এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ৮১ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়তে পারেন।
এদিকে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী আনসার আল্লাহ (হুথি) জানিয়েছে, তারা সৌদি আরবগামী দুটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি জানায়, লোহিত সাগরে আরোপিত সামুদ্রিক অবরোধ লঙ্ঘনের জবাবে এনসেলিয়া (ENCELIA) ও লায়লা (LAYLA) নামের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি পরিবহনব্যবস্থা আরও অস্থিতিশীল হলে সার আমদানি ব্যয় ও সরবরাহে চাপ বাড়তে পারে, যার প্রভাব বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপরও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।