ঢাকারবিবার , ৩১ আগস্ট ২০২৫
  • অন্যান্য

জেনে নিন উচ্চ প্রোটিনযুক্ত সামুদ্রিক খাবারের নাম

বিপ্লব হোসাইন
আগস্ট ৩১, ২০২৫ ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ । ৫৫৬ জন

মানবদেহের সুস্থ বৃদ্ধি, পেশী গঠন ও মেরামতের জন্য প্রোটিন অপরিহার্য। গড়পড়তা একজন প্রাপ্তবয়স্কের জন্য দৈনিক প্রয়োজন প্রতি কেজি ওজনের জন্য ০.৮ থেকে ১ গ্রাম প্রোটিন। তবে ব্যায়ামকারীদের ক্ষেত্রে এই চাহিদা আরও বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রোটিনের সেরা ও স্বাস্থ্যকর উৎস হলো সামুদ্রিক খাবার—যার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের মাছ ও শেলফিশ। এসব খাবার শুধু উচ্চমানের প্রোটিনই নয়, বরং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন ডি, বি-গ্রুপ ভিটামিন, সেলেনিয়াম ও অন্যান্য অপরিহার্য খনিজ উপাদানে ভরপুর। একইসঙ্গে এগুলো তুলনামূলক কম ক্যালোরি ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট সরবরাহ করে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণ ও হৃদযন্ত্রের সুরক্ষায়ও সহায়ক। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অনেকেই নিয়মিত সামুদ্রিক খাবার খান না। অথচ সপ্তাহে অন্তত ৮ আউন্স মাছ ও শেলফিশ খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদরা।

চলুন জেনে নেওয়া যাক উচ্চ প্রোটিনযুক্ত কয়েকটি সামুদ্রিক খাবারের নাম:

টুনা
চর্বিহীন প্রোটিনের পাওয়ার হাউস হিসেবে পরিচিত টুনা প্রতি পরিবেশনে প্রায় ২৫ গ্রাম প্রোটিন সরবরাহ করে। মাত্র ১২০ ক্যালোরি ও ১ গ্রাম ফ্যাটসহ এটি সেলেনিয়াম, ভিটামিন বি৩ ও বি৬ সমৃদ্ধ, যা শরীরের শক্তি উৎপাদন, স্নায়ুর স্বাস্থ্য এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

ওয়াইল্ড স্যামন
সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর খাবারের মধ্যে একটি হলো ওয়াইল্ড স্যামন। এতে রয়েছে ২২–২৩ গ্রাম প্রোটিন ও ১৫৫ ক্যালোরি। প্রোটিনের পাশাপাশি স্যামন ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন ডি ও ভিটামিন বি১২-এর অসাধারণ উৎস, যা হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক ও হাড়ের সুস্থতায় ভূমিকা রাখে।

অক্টোপাস
ভূমধ্যসাগরীয় খাবারের অন্যতম জনপ্রিয় উপাদান অক্টোপাসে প্রায় ২৫ গ্রাম প্রোটিন ও ১৪০ ক্যালোরি পাওয়া যায়। এটি আয়রন, ফসফরাস ও সেলেনিয়ামের দারুণ উৎস, যা শরীরে রক্ত উৎপাদন, শক্তি বিপাক ও কোষ সুরক্ষায় সহায়তা করে।

চিংড়ি
চিংড়ি হলো সবচেয়ে কম ক্যালোরি ও পাতলা প্রোটিনের উৎসগুলির একটি। মাত্র ৯৯ ক্যালোরিতে ২৪ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়। এতে রয়েছে আয়োডিন, ভিটামিন বি১২ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা থাইরয়েডের কার্যকারিতা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।

সার্ডিন
সস্তা হলেও সার্ডিনকে বলা হয় সুপারফুড। এক পরিবেশনে ২২ গ্রাম প্রোটিন ও ১৯১ ক্যালোরি পাওয়া যায়। এতে রয়েছে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা হাড়ের দৃঢ়তা ও মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

ট্রাউট
মিঠা পানি ও স্টিলহেড ট্রাউট—উভয় প্রজাতিই প্রোটিন ও পুষ্টিতে ভরপুর। প্রতি পরিবেশনে এতে থাকে ২২ গ্রাম প্রোটিন ও ১৬২ ক্যালোরি। ট্রাউট ভিটামিন ডি ও ওমেগা-৩-এর চমৎকার উৎস, যা হাড় মজবুত করা ও হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখায় সহায়তা করে।

আটলান্টিক ম্যাকেরেল
পুষ্টিতে ভরপুর তৈলাক্ত মাছ আটলান্টিক ম্যাকেরেল থেকে এক পরিবেশনে প্রায় ২০ গ্রাম প্রোটিন ও ২২৩ ক্যালোরি পাওয়া যায়। এতে রয়েছে ভিটামিন ই, ভিটামিন ডি ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, যা প্রদাহ কমাতে ও হৃদপিণ্ডকে সুরক্ষা দিতে কার্যকর।

স্ক্যালপস
আকারে ছোট হলেও স্ক্যালপস হলো শক্তিশালী প্রোটিনের উৎস। প্রতি পরিবেশনে এতে থাকে ২০ গ্রাম প্রোটিন ও মাত্র ১১১ ক্যালোরি। এগুলো সেলেনিয়াম ও জিঙ্কে সমৃদ্ধ, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীরকে সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখে।

কড
কড মাছের স্বাদ হালকা এবং এটি সহজে হজমযোগ্য। প্রতি পরিবেশনে এতে প্রায় ২০ গ্রাম প্রোটিন ও মাত্র ৯৫ ক্যালোরি পাওয়া যায়। বি ভিটামিন ও সেলেনিয়ামের ভালো উৎস হওয়ায় এটি শক্তি উৎপাদন ও স্নায়ুর স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়ক।

সামুদ্রিক খাবারের পাশাপাশি আরও কিছু মাছ ও শেলফিশও প্রোটিনের দারুণ উৎস। এর মধ্যে রয়েছে হ্যালিবাট, স্ন্যাপার, কাঁকড়া, মাহি-মাহি, লবস্টার ও পোলক—যেগুলোতেও পর্যাপ্ত প্রোটিন ও নানা ধরনের ভিটামিন-খনিজ পাওয়া যায়। তবে মনে রাখতে হবে, মাছ ও শেলফিশ যুক্তরাষ্ট্রে শীর্ষ ৯ খাদ্য অ্যালার্জেনের মধ্যে একটি। তাই যাদের এ ধরনের অ্যালার্জি আছে, তাদের জন্য এ খাবার একেবারেই পরিহার করা জরুরি।

যাদের মাছ বা শেলফিশ খাওয়া সম্ভব নয়, তাদের জন্য বিকল্প প্রোটিন উৎস হিসেবে ডিম, দই, চর্বিহীন মাংস, মুরগি, ডাল, মটরশুটি, টোফু এবং বাদামজাতীয় খাবার হতে পারে চমৎকার সমাধান। এগুলোও শরীরে প্রোটিন ঘাটতি পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

অর্থাৎ, সপ্তাহে অন্তত কয়েকবার মাছ ও শেলফিশ খাওয়া শুধু প্রোটিনের ঘাটতি পূরণই করে না, বরং হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক ও হাড়কে রাখে আরও সুস্থ ও শক্তিশালী।