ঢাকাবুধবার , ৪ নভেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. নিরাপদ খাদ্য

শীতকালেও চড়া মাছ ও গরুর মাংসের দাম, পোল্ট্রিতে মিলছে কিছুটা স্বস্তি

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
২ জানুয়ারী ২০২৬, ২:৪৬ বিকাল

Link Copied!

নিত্যপণ্যের বাজারে শীতকাল এলেও মাছ ও গরুর মাংসের দামে তেমন কোনো স্বস্তি আসেনি। রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে মাছ ও গরুর মাংস প্রায় একই দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য এসব আমিষ এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। তবে তুলনামূলক স্বস্তির খবর মিলছে পোল্ট্রি বাজারে—ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম কমায় নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্যতালিকায় কিছুটা প্রাণ ফিরেছে।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাজধানীর শনিরআখড়া, যাত্রাবাড়ী ও রায়েরবাগ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বড় আকারের মাছ রুই, কাতল ও বোয়াল কেজিপ্রতি ৪০০ থেকে ৫২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি আকারের তেলাপিয়া ও পাঙ্গাসের দাম ২৫০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে থাকলেও দেশি ছোট মাছের দাম তুলনামূলক বেশি। কৈ, শিং, টেংরা ও পুঁটি মাছের কেজি ৫৫০ থেকে ৭০০ টাকার নিচে নামেনি। দামে কোনো পরিবর্তন না থাকায় এসব মাছ নিয়মিত কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান ক্রেতারা।

গরুর মাংসের বাজারেও একই চিত্র দেখা গেছে। রাজধানীর অধিকাংশ বাজারে গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও ভালো মানের মাংসের দাম ৯০০ টাকা পর্যন্ত হাঁকছেন বিক্রেতারা। খাসির মাংসের দাম আরও বেশি—কেজিপ্রতি ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা। ফলে সাধারণ মানুষ গরুর মাংসের পরিবর্তে তুলনামূলক সস্তা আমিষের দিকে ঝুঁকছেন।

যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা রিকশাচালক রহিম মিয়া বলেন, “গরুর মাংস এখন স্বপ্নের মতো। মাছের দামও কমেনি, তাই মুরগিই এখন ভরসা।”

অন্যদিকে পোল্ট্রি বাজারে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। কিছুদিন আগেও ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা থাকলেও বর্তমানে তা কমে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় নেমে এসেছে। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা কেজিতে, যা আগের তুলনায় ৩০ থেকে ৪০ টাকা কম। ডিমের দামও তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে—প্রতি ডজন ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নিম্নআয়ের মানুষের জন্য পোল্ট্রি এখন প্রধান আমিষের উৎস হয়ে উঠেছে। যাত্রাবাড়ীর এক গৃহকর্মী সেলিনা আক্তার বলেন, “মাছ আর গরুর মাংস কিনতে পারি না। মুরগির দাম কমায় সপ্তাহে এক–দুদিন অন্তত মাংস রান্না করতে পারছি।”

বিক্রেতাদের মতে, খামার পর্যায়ে সরবরাহ বাড়া এবং উৎপাদন খরচ কিছুটা কমায় পোল্ট্রি পণ্যের দামে এই স্বস্তি এসেছে। রায়েরবাগ বাজারের এক মুরগি বিক্রেতা জানান, খামার থেকে মুরগির সরবরাহ বাড়ায় দাম কমলেও বিক্রি বেড়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মাছ ও গরুর মাংসের দামে স্থবিরতা থাকলেও পোল্ট্রি খাতে এই সহনীয় অবস্থা স্বল্প আয়ের মানুষের খাদ্যব্যয় সামাল দিতে সহায়ক হচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে বাজারে ভারসাম্য আনতে মাছ ও মাংস খাতে উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ানোর দিকে নজর দেওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন তারা।

তাদের মতে, নিত্যপণ্যের বাজারে মাছ ও গরুর মাংসে স্বস্তি না এলেও পোল্ট্রি পণ্যের কম দাম এখন গরিব মানুষের বড় ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই স্বস্তির ধারা অব্যাহত থাকলে অন্তত আমিষের বাজারে সাধারণ মানুষের কিছুটা স্বস্তি ফিরবে—এমনটাই প্রত্যাশা।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

উপায়ের ‘স্বপ্নের ওমরাহ’ ক্যাম্পেইনে পুরস্কার পেলেন ৩ ডিস্ট্রিবিউশন পার্টনার

সাতক্ষীরায় ৭৫ শতাংশ জলবায়ু বাস্তুচ্যুত পরিবার তীব্র খাদ্য সংকটে

মিরপুর বেড়িবাঁধে বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ৪

হাসপাতাল নেই ৬০ গ্রামে, অসুস্থ হলে আট ঘণ্টার নদীপথ পাড়ি

চাঁদপুরে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারে ৬ যানবাহনকে জরিমানা

ঢাকায় শুষ্ক আবহাওয়া, কমতে পারে দিনের তাপমাত্রা

বাংলাদেশে জীববৈচিত্র্য ও জলবায়ু রক্ষায় ১২ সংস্থার সঙ্গে ইউএনডিপির চুক্তি

সড়ক দুর্ঘটনার আচরণগত ঝুঁকি নিরসনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাথে মতবিনিময় সভা

২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৬ মৃত্যু

ভিভো ভি৮০: নতুন রং ও নতুন ডিজাইনে আসছে নতুন চমক

vivo V80: Arriving in a New Colour with a New Design

ক্রোনস ও আলসারেটিভ কোলাইটিস: দুই রোগের পার্থক্য, লক্ষণ ও চিকিৎসা