উত্তরের বিভাগীয় শহর রাজশাহীতে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। দিনভর সূর্যের দেখা মিলছে না, সঙ্গে বইছে হিমেল বাতাস। ফলে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। তবে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নগরীর ফুটপাতে জমে উঠেছে শীতের পোশাকের বেচাকেনা।
প্রায় ৭২ ঘণ্টা পর বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে কয়েক মিনিটের জন্য সূর্যের দেখা মিললেও তাতে স্বস্তি মেলেনি। ওই দিন বছরের শেষ দিনে রাজশাহীতে মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করে আবহাওয়া অফিস। সকাল ৬টায় তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল শতভাগ।
আবহাওয়া অফিস জানায়, মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তার আগের দিন সোমবারও একই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। গত ২৫ ডিসেম্বর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সাহেব বাজার, রেলগেট, নিউ মার্কেট, গণকপাড়া, কুমারপাড়া, কোর্ট বাজার ও রানীবাজার এলাকায় ফুটপাতে শীতের পোশাক কিনতে ভিড় করছেন ক্রেতারা। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষ তুলনামূলক কম দামে জ্যাকেট, সোয়েটার, মাফলার, টুপি ও পাজামা কিনছেন।
সাহেব বাজার এলাকায় ক্রেতা রশিদুল হক বলেন, “মার্কেটে জ্যাকেটের দাম ৯০০ টাকা চাইলো, এখানে ৩০০ টাকায় কিনছি। শীতে এত দামি কাপড়ের দরকার নাই।”
এক নারী ক্রেতা মোছা. হাফসা জানান, শিশুদের জন্য কম দামে পোশাক পাওয়ায় তিনি ফুটপাত থেকেই কিনছেন।
অন্যদিকে শীত শ্রমজীবী মানুষের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে। রিকশাচালক শরিফ বলেন, “ঠান্ডায় খুব কষ্ট। তবুও পেটের দায়ে রিকশা চালাইতে হচ্ছে।” চারঘাট থেকে কাজের সন্ধানে আসা শ্রমিক ইসরাফিল জানান, প্রচণ্ড শীতে কাজ করাই কষ্টকর হয়ে পড়েছে, তবু বিকল্প না থাকায় বের হতে হচ্ছে।
শীতের প্রভাবে সন্ধ্যার পরপরই অনেক দোকান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বিনোদনকেন্দ্রগুলোতেও দর্শনার্থীর সংখ্যা কমে গেছে। পদ্মা গার্ডেন, টি-বাঁধ, লালন শাহ মুক্তমঞ্চ ও ফুলতলায় দেখা গেছে ফাঁকা পরিবেশ। খাবারের অস্থায়ী দোকানগুলোতেও বিক্রি কমেছে।
টি-বাঁধ এলাকার এক বিক্রেতা বলেন, “শীতের কারণে মানুষ কম আসছে। যারা আসে, সেলফি তুলে চলে যায়।” নৌকার মাঝিরাও জানান, শীতের কারণে পর্যটক কমে যাওয়ায় আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম বলেন, তাপমাত্রা কম, বাতাস রয়েছে এবং রোদ না ওঠায় শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। এই অবস্থা আরও কয়েকদিন থাকতে পারে। তিনি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়া এবং সবাইকে গরম পোশাক ব্যবহারের পরামর্শ দেন।


