
বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প চলতি সপ্তাহে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পাবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিপিডিবির চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রেজাউল করিম জানান, প্রকল্পটি ইতোমধ্যে পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদন পেয়েছে এবং প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রামপালে বিদ্যমান ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশে প্রকল্পটি নির্মাণ করা হবে। ২০২৮ সাল থেকে ধাপে ধাপে এর বাস্তবায়ন শুরু হবে।
বিপিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানান, ৯১৮ দশমিক ৫ একর অব্যবহৃত জমিতে সৌর ফোটোভোলটাইক (পিভি) বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হবে। জমিটি আগে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট ফান্ড ব্যবহার করা হবে।
বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ২ হাজার ৫০২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। প্রকল্প এলাকায় জমি ভরাট ও সীমানা সুরক্ষাসহ গুরুত্বপূর্ণ সাইট উন্নয়নকাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ফলে নতুন স্থানে প্রকল্প নির্মাণের তুলনায় ব্যয় ও বাস্তবায়ন সময় কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (বিআইএফপিসিএল) সাবস্টেশনের সঙ্গে সংযুক্ত নতুন ২৩০ কিলোভোল্ট সঞ্চালন ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
প্রকল্পটির মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানো, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সুন্দরবনের ওপর পরিবেশগত চাপ কমাতেও এটি ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটিতে প্রতি ইউনিট সৌরবিদ্যুতের সম্ভাব্য ট্যারিফ ধরা হয়েছে ৬ টাকা ১৮ পয়সা। এটি ফেনীর সোনাগাজীতে প্রস্তাবিত ২২০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের আনুমানিক ৮ টাকা ৮৭ পয়সা ট্যারিফের তুলনায় প্রায় ৪৩ শতাংশ কম।
আইইইএফএর লিড এনার্জি অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম বলেন, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য নির্ধারিত জমিকে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে রূপান্তর বাংলাদেশের পরিবর্তনশীল জ্বালানি অগ্রাধিকারের প্রতিফলন। প্রকল্পটি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তায় অবদান রাখবে এবং পরিচ্ছন্ন ও টেকসই বিদ্যুৎ খাত গঠনে ইতিবাচক পদক্ষেপ হবে।
প্রকল্পটি ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বার্ষিক বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের লক্ষ্য, প্যারিস চুক্তির অঙ্গীকার, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) এবং ইন্টিগ্রেটেড এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার মাস্টার প্ল্যান (আইইপিএমপি)-২০২৩ বাস্তবায়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এদিকে, জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০) অনুযায়ী, সরকার রুফটপ সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণ এবং এ খাতে উদ্যোক্তা ও সেবা প্রদানকারীদের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে দেশব্যাপী কর্মসূচি শুরু করেছে।