ঢাকাবুধবার , ২৪ জুন ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. লাইফস্টাইল

রাতে একা হাঁটার জন্য বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ ১০ দেশ

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:৫১ সকাল

Link Copied!

গ্লোবাল সেফটি রিপোর্ট অনুযায়ী বিশ্বের কিছু দেশ রাতের অন্ধকারেও নাগরিকদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। গ্যালাপের সাম্প্রতিক জরিপে উঠে এসেছে, সিঙ্গাপুর থেকে শুরু করে সংযুক্ত আরব আমিরাত পর্যন্ত বেশ কয়েকটি দেশ তাদের নাগরিকদের মধ্যে নিরাপত্তার দৃঢ় অনুভূতি সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে “রাতে একা হাঁটার নিরাপত্তা” সূচকে এই দেশগুলো অন্যদের থেকে অনেক এগিয়ে। এ প্রতিবেদনে সেই দেশগুলোর সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হলো।

সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে সিঙ্গাপুর। দেশটি ৯৮ শতাংশ নিরাপত্তার স্কোর নিয়ে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে। ছোট রাষ্ট্র হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোরতা, অপরাধ দমনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা সিঙ্গাপুরকে বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ দেশ বানিয়েছে। রাতের বেলা শহরের রাস্তায় নারী কিংবা পুরুষ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারেন, যা অনেক বড় অর্থনীতির দেশেও এখনও সম্ভব হয়নি।

তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে তাজিকিস্তান। মধ্য এশিয়ার এই দেশটি সাধারণত বড় কোনো সংঘাতের সাথে জড়িত নয় এবং স্থানীয় জনগণের পারস্পরিক আস্থা ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিরাপত্তার মূলভিত্তি হিসেবে কাজ করে। জরিপে ৯৫ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, তারা রাতে একা বের হলেও নিরাপদ বোধ করেন।

চীন তৃতীয় স্থানে রয়েছে ৯৪ শতাংশ স্কোর নিয়ে। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ হওয়া সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর উপস্থিতি এবং সরকারের কঠোর নীতি অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে বড় শহরগুলোতে সিসিটিভি মনিটরিং এবং ডিজিটাল নজরদারি নাগরিকদের মধ্যে নিরাপত্তা সম্পর্কে আস্থা বাড়িয়েছে। একই স্কোরে চতুর্থ স্থানে রয়েছে ওমান। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সাংস্কৃতিক সহনশীলতার কারণে নিরাপত্তার দিক থেকে অনন্য। স্থানীয় জনগণ বিদেশিদের প্রতিও সহনশীল এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান অপরাধকে ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে এনেছে।

পঞ্চম স্থানে রয়েছে সৌদি আরব। ধর্মীয় এবং সামাজিক রক্ষণশীলতার কারণে এখানে অপরাধের মাত্রা তুলনামূলক কম। রাতের বেলা শহরের রাস্তায় চলাচল করা সাধারণত নিরাপদ, বিশেষ করে ধর্মীয় নগরীগুলোতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ থাকায় মানুষ অনেক বেশি আস্থা অনুভব করেন।

ষষ্ঠ স্থানে আছে হংকং। যদিও এটি চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল, তবুও নিজস্ব আইনব্যবস্থা এবং শৃঙ্খলার কারণে হংকং ৯১ শতাংশ স্কোর অর্জন করেছে। একই স্কোর নিয়ে সপ্তম স্থানে রয়েছে কুয়েত এবং অষ্টম স্থানে নরওয়ে। কুয়েতের তেলসমৃদ্ধ অর্থনীতি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সমাজের নিরাপদ পরিবেশ এ ফলাফল এনে দিয়েছে। অপরদিকে নরওয়ে একটি উন্নত ইউরোপীয় দেশ, যেখানে সামাজিক কল্যাণনীতি ও সমতাভিত্তিক সমাজব্যবস্থা নাগরিকদের মধ্যে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা জোরদার করেছে।

নবম স্থানে রয়েছে বাহরাইন, যেখানে ৯০ শতাংশ মানুষ রাতে একা বের হতে নিরাপদ বোধ করেন। আকারে ছোট হলেও দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কার্যকর ভূমিকা রাখছে। দশম স্থানে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দুবাই ও আবুধাবির মতো নগরীগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক মানের নজরদারি ব্যবস্থা রাতের বেলা নাগরিক ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

সব মিলিয়ে দেখা যায়, নিরাপত্তা কেবল অর্থনৈতিক উন্নয়ন বা সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করে না, বরং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সামাজিক বিশ্বাস এবং সংস্কৃতির ভূমিকা অপরিসীম। এই দেশগুলো রাতের অন্ধকারেও নাগরিকদের আস্থা ও স্বস্তি দিতে পেরেছে, যা তাদেরকে বিশ্বের কাছে আলাদা মর্যাদা এনে দিয়েছে।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

এসবিএসি ব্যাংকের গ্রাহক ও কর্মীদের স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা দিতে চিকিৎসা ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে চুক্তি

DMP will toughen traffic laws and speed limits guideline enforcement

ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে জোর, ডিএমপি কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ

যমুনার পানি বাড়ছে, সিরাজগঞ্জে তীব্র নদীভাঙনে আতঙ্ক

ল্যাবে তৈরি কৃত্রিম অঙ্গের অভাবনীয় সাফল্য

বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানায় যুক্ত হলো নতুন আফ্রিকান বন্যপ্রাণী

আগামী ৪ দিন যেমন থাকতে পারে দেশের আবহাওয়া

কর্মসৃজন ও দক্ষতা উন্নয়নে পিকেএসএফের অর্থায়ন ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি

শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ ডেঙ্গু পরিস্থিতি, নিয়ন্ত্রণে সেনা মোতায়েন

বিজয়নগরে সিমেন্টবোঝাই ট্রাক খাদে, শ্রমিক নিহত

জলবায়ু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিশ্বনেতাদের প্রতি তারেক রহমানের আহ্বান

কবিরহাটে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ২