ঢাকাশনিবার , ১০ অক্টোবর ২০২৬
  1. সর্বশেষ

যশোরে আমন আবাদে বাড়তি খরচ, ধান বিক্রিতে লোকসানের শঙ্কা

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ অক্টোবর ২০২৬, ৩:২৪ বিকাল

Link Copied!

যশোরে আমন ধান আবাদ করে উৎপাদন খরচ তোলাই কঠিন হয়ে পড়েছে কৃষকদের জন্য। ডিজেলের দাম বৃদ্ধি, সার ও কীটনাশকের বাড়তি মূল্য এবং কৃষিশ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধিতে বেড়েছে উৎপাদন ব্যয়। অন্যদিকে বাজারে ধানের দাম তুলনামূলক কম থাকায় ভালো ফলন হলেও লোকসানের আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। তাঁদের হিসাবে, গত বছরের তুলনায় এবার বিঘাপ্রতি আমন আবাদে খরচ বেড়েছে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা।

জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৯৫০ থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০ টাকা দরে। সে হিসাবে ১৬ মণ ধান উৎপাদন হলে বিক্রি করে পাওয়া যায় সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ৮০০ টাকা। অথচ জমির ধরন ও চাষের পদ্ধতিভেদে এক বিঘা জমিতে আমন আবাদে খরচ দাঁড়াচ্ছে ১৮ থেকে ২১ হাজার টাকা পর্যন্ত। ফলে উৎপাদন খরচ তুলতে না পারার শঙ্কায় রয়েছেন অনেক কৃষক।

কৃষকদের অভিযোগ, ধানের বিক্রয়মূল্য না বাড়লেও চাষের প্রায় প্রতিটি উপকরণের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে জমি প্রস্তুতের খরচে। গত বছর প্রতি দফা জমি চাষে যেখানে প্রায় ৩০০ টাকা ব্যয় হতো, এবার সেখানে দিতে হচ্ছে প্রায় ৩৫০ টাকা। আমন আবাদে সাধারণত চার দফা চাষ দিতে হয়। এতে শুধু জমি তৈরিতেই বিঘাপ্রতি প্রায় ২০০ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে।

একইভাবে কৃষিশ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৪০০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০০ টাকা হয়েছে। এতে চারা রোপণ ও নিড়ানির মতো কাজে বিঘাপ্রতি খরচ বেড়েছে প্রায় ১ হাজার টাকা। এর সঙ্গে সার ও কীটনাশকের বাড়তি দাম যুক্ত হয়ে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কিছু জমিতে সম্পূরক সেচের প্রয়োজন হলে খরচ বাড়ছে আরও।

যশোর সদর উপজেলার চুড়মনকাটি ইউনিয়নের আবদুলপুর গ্রামের কৃষক আমিন উদ্দিন বলেন, তিন বিঘা জমিতে এবার আমন আবাদ করেছেন তিনি। বীজতলা তৈরি থেকে শুরু করে জমি প্রস্তুত ও ধান ঘরে তোলা পর্যন্ত যে খরচ হবে, তাতে লোকসানের আশঙ্কা করছেন তিনি।

আমিন উদ্দিন বলেন, ধানের দাম না বাড়লে এবার চাষ করে লাভের বদলে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

সদর উপজেলার জলকর গ্রামের কৃষক অলিয়ার রহমানও বাড়তি উৎপাদন ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। দুই বিঘা ছয় কাঠা জমিতে আমন আবাদ করা এই কৃষক জানান, সরকারি নির্ধারিত দরে সার পাওয়ার কথা থাকলেও তাঁকে বেশি দামে কিনতে হয়েছে। এক বস্তা টিএসপি সার কিনেছেন ২ হাজার ২০০ টাকায়, এক বস্তা এমওপি ১ হাজার ২০০ টাকায় এবং দুই বস্তা ইউরিয়া কিনেছেন প্রতিটি ১ হাজার ৪০০ টাকা দরে।

অলিয়ার রহমানের নিজের জমি মাত্র আট কাঠা। বাকি জমি বন্ধক বা বর্গা নিয়ে চাষ করছেন তিনি। ফলে বাড়তি উৎপাদন ব্যয়ের চাপ তাঁর জন্য আরও বেশি।

ভায়না গ্রামের কৃষক তোফাজ্জেল মোল্যাও একই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত দামে সব সময় সার পাওয়া যাচ্ছে না। বেশি দামে সার কিনে ধান আবাদ করার পর শেষ পর্যন্ত খরচের হিসাব মেলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

নির্ধারিত দরে সার না পাওয়ার অভিযোগ

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে যশোরে ১ লাখ ৩৩ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে।

কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, ৩৩ শতকে এক বিঘা ধরে আমন চাষে গড়ে ৩০ কেজি ইউরিয়া, ১৫ থেকে ২০ কেজি টিএসপি এবং ১৫ থেকে ২০ কেজি এমওপি প্রয়োজন হয়। টিএসপির পরিবর্তে সমপরিমাণ ডিএপি সারও ব্যবহার করা যায়।

সরকার নির্ধারিত দরে ৫০ কেজির এক বস্তা টিএসপি ও ডিএপি সারের দাম ১ হাজার ৩৫০ টাকা। একই পরিমাণ এমওপি সারের দাম ১ হাজার টাকা এবং ইউরিয়া সারের দাম ১ হাজার ৩৫০ টাকা। তবে কৃষকদের অভিযোগ, বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই নির্ধারিত দামে এসব সার কিনতে পারছেন না তাঁরা। ফলে সার কেনার পেছনে পরিকল্পনার চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

ফলন ভালো হলেও খরচ উঠছে না

কৃষি-সংশ্লিষ্টদের হিসাব অনুযায়ী, গত বছর ৩৩ শতকের এক বিঘা জমিতে আমন আবাদে মোট খরচ ছিল প্রায় ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা। এবার সেই ব্যয় বেড়ে ১৮ থেকে ২১ হাজার টাকায় পৌঁছাতে পারে।

অন্যদিকে, বিঘাপ্রতি গড়ে ১৫ থেকে ১৬ মণ ধান উৎপাদন হলে বর্তমান বাজারদরে বিক্রি করে পাওয়া যায় প্রায় ১৪ হাজার ২৫০ থেকে ১৬ হাজার ৮০০ টাকা। অর্থাৎ উৎপাদন খরচের তুলনায় ধান বিক্রি করে আয় কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জমির খরচ, ফলন ও বিক্রয়মূল্যের ওপর নির্ভর করে কৃষকের প্রকৃত লাভ-ক্ষতি নির্ধারিত হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. জাহিদুল ইসলাম বিশ্বাস বলেন, আমন ধানে সার প্রয়োগের সময় প্রায় শেষ। উঁচু জমিতে কোথাও কোথাও সম্পূরক সেচের প্রয়োজন হতে পারে। ডিজেলের দাম বেশি হওয়ায় সেসব জমিতে কৃষকের খরচ আরও বাড়বে।

তিনি মনে করেন, উৎপাদন ব্যয়ের বাড়তি চাপ সামাল দিতে ধানের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ধানের দাম না বাড়লে কৃষকদের ওপর আর্থিক চাপ থেকেই যাবে।

এ অবস্থায় আমন ধানের উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যায্য দাম পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন যশোরের কৃষকরা। তাঁদের আশঙ্কা, উৎপাদন খরচের তুলনায় বিক্রয়মূল্য কম থাকলে পরবর্তী মৌসুমে চাষাবাদ চালিয়ে যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

বিশ্বে ১০০ কোটির বেশি মানুষ মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত

জামালপুরে বাসচাপায় শাশুড়ি-পুত্রবধূ নিহত

মৌসুমি বায়ু বিদায়, আগামী পাঁচ দিন কেমন থাকবে দেশের আবহাওয়া

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ‘যাও পাখি বলো তারে’র গায়িকা কৃষ্ণকলি

বন্ধুর মোটরসাইকেল নিয়ে বেরিয়ে প্রাণ গেল স্কুলছাত্রের

ফ্লোরিডায় ক্যাটাগরি ২ হারিকেনের আঘাত, বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কা

ওসমানীনগরে তিন গাড়ির সংঘর্ষে নিহত ২

মা ইলিশ রক্ষায় অভিযানে তিন জেলে আটক

চট্টগ্রামে সাইকেল আরোহীদের জন্য পৃথক ট্র্যাক চালু

দেড় বছরের মধ্যে দেশজুড়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ার ঘোষণা সরকারের

স্পেনের গুহায় মিলল নিয়ান্ডারথালদের কাঠের তৈরি অস্ত্র, পাত্র ও হাতুড়ি

জলবায়ুর ঝুঁকি মোকাবিলায় উপকূলে ম্যানগ্রোভ চারা রোপণ