ঢাকাবুধবার , ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ

যমুনার ভাঙনে হুমকিতে চৌহালী জনতা উচ্চ বিদ্যালয়

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:৫৯ বিকাল

Link Copied!

যমুনা নদীর ভাঙনে একের পর এক গ্রাম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এবার সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে ভাঙনের মুখে পড়েছে চৌহালী জনতা উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে ইতোমধ্যে প্রায় ১০০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যালয় ভবন থেকে যমুনা নদীর দূরত্ব মাত্র ১৫ ফুট।

উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামই যমুনার ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। বিদ্যালয়টি রক্ষায় দ্রুত জিওটেক্স বালুর বস্তা ফেলে ডাম্পিং করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খাষকাউলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ খাষকাউলিয়া গ্রামে গত সোমবার সকালে জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে হঠাৎ ভাঙন শুরু হয়। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় যেকোনো সময় বিদ্যালয় ভবন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়টি রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনকবলিত এলাকায় জিওটেক্স বালুর বস্তা ফেলে ডাম্পিং করতে হবে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে চার গ্রামের শিক্ষার্থীদের একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি নদীগর্ভে হারিয়ে যেতে পারে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক জাহাঙ্গীর ফকির, মজিবর রহমান, বাবুল আক্তার ও মোহাম্মদ আলী বলেন, নদীভাঙনে এ এলাকার বহু মানুষ ইতোমধ্যে নিঃস্ব ও অসহায় হয়ে পড়েছেন। সন্তানদের দূরের বিদ্যালয়ে পড়ানোর মতো আর্থিক সামর্থ্য অনেক পরিবারের নেই। স্কুলটি নদীতে বিলীন হয়ে গেলে তাদের সন্তানদের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যাবে।

চৌহালী জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফজলুল হক বলেন, হঠাৎ করে নদীভাঙন শুরু হয়েছে এবং তা অব্যাহত রয়েছে। বিদ্যালয় ভবন থেকে নদীর দূরত্ব এখন মাত্র ১৫ ফুট। কিছুদিন আগেই পশ্চিম জোতপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় যমুনার ভাঙনে বিলীন হয়েছে। একই পরিণতি যেন চৌহালী জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের না হয়, সে জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, চার গ্রামের নদীভাঙনকবলিত হতদরিদ্র পরিবারের ২৯৫ জন শিক্ষার্থী এ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। আশপাশে আর কোনো বিদ্যালয় না থাকায় প্রতিষ্ঠানটি তাদের একমাত্র ভরসা। বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে ভাঙনকবলিত এলাকায় দ্রুত বালুর বস্তা ফেলে ডাম্পিং করা হলে স্কুলটি রক্ষা করা সম্ভব হবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

খাষকাউলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবলু বলেন, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে হঠাৎ ভাঙন দেখা দেয়। এতে বিদ্যালয়টি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, ভাঙন রোধে দ্রুত ওই এলাকায় জিওটেক্স বালুর বস্তা ফেলার কাজ শুরু করা হবে।

তিনি আরও জানান, ওই এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য ৯০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলে সেখানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

বিদ্যালয়টি রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের আশঙ্কা, বিলম্ব হলে শুধু একটি বিদ্যালয় নয়, চার গ্রামের ২৯৫ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনও অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১৫১ শয্যায় উন্নীত করবে সরকার

আগামী ৫ দিন যেমন থাকতে পারে দেশের আবহাওয়া

শব্দদূষণ কমাতে ১৫ দিনে হর্ন অপসারণের উদ্যোগ গাজীপুরে

মাছের উৎপাদন বাড়িয়ে চাহিদা পূরণ, অতিরিক্ত মাছ রপ্তানির আহ্বান

পর্যটন ও এভিয়েশন খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় সরকার

Road Crashes Claim More Young Lives, Youth Seek Road Safety Law

রোডক্র্যাশে তরুণদের হতাহত বেশি, সড়ক নিরাপত্তা আইন চায় তারা

সাভারে দুই বেকারিকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা

ইস্তাম্বুলে জব্দ ইরানের কাসপিয়ান এয়ারলাইন্সের বিমান

আজ নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক

দেশের বাজারে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম

২ বিভাগে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, পাহাড়ি জেলায় ভূমিধসের শঙ্কা