
বাংলাদেশে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বাস্তুতন্ত্র (ইকোসিস্টেম) পুনরুদ্ধার, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং টেকসই জীবিকা অর্জনের লক্ষ্যে ১২টি স্থানীয় অংশীদার সংস্থার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)।
গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটি (জিইএফ)-এর স্মল গ্র্যান্টস প্রোগ্রাম (এসজিপি)-এর আওতায় ঢাকার স্থানীয় এক আয়োজনে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ইউএনডিপি কর্তৃক বাস্তবায়িত এই প্রোগ্রামটির মূল লক্ষ্য হলো—পরিবেশগত নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও সামাজিক সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণে উদ্ভাবনী সমাধান গড়ে তোলা।
প্রতিযোগিতামূলক মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচিত এই ১২টি প্রকল্প দেশের পরিবেশগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর অঞ্চলগুলোতে বাস্তবায়িত হবে। এর মধ্যে রয়েছে—সুন্দরবন, কক্সবাজার-টেকনাফ উপকূলীয় এলাকা, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ, হাকালুকি হাওর, টাঙ্গুয়ার হাওর, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং বরেন্দ্র অঞ্চল।
এই উদ্যোগগুলোর অধীনে ম্যানগ্রোভ ও জলাভূমি পুনরুদ্ধার, সামুদ্রিক কচ্ছপ সংরক্ষণ, হাতির আবাসস্থল সুরক্ষা, কমিউনিটিভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, টেকসই কৃষি এবং জলবায়ু-সহনশীল জীবিকায়ন নিশ্চিত করতে কাজ করা হবে। পাশাপাশি সার্কুলার ইকোনমি বা চক্রাকার অর্থনীতি, নবায়নযোগ্য শক্তি, সম্পদ-দক্ষ মৎস্য চাষ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর জন্য বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরি করা হবে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ইউএনডিপি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক প্রতিনিধি সোনালী দায়ারত্নে বলেন, ‘এই অংশীদারিত্বের প্রকৃত সাফল্য পরিমাপ করা হবে ইকোসিস্টেমের গুণগত পরিবর্তন এবং প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের মাধ্যমে। প্রকল্পগুলো শেষ হওয়ার পরও যেন স্থানীয় জনগোষ্ঠী এই সুফল ধরে রাখতে পারে, সেদিকেই আমাদের মূল নজর দিতে হবে।’
অনুষ্ঠানে স্বাগতিক বক্তব্যে ইউএনডিপি বাংলাদেশের সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি সরদার এম আসাদুজ্জামান বলেন, ‘স্থানীয় উদ্ভাবন এবং ভাগ করে নেওয়া দায়িত্ববোধের ভিত্তিতেই এই অংশীদারিত্ব গড়ে উঠেছে। পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্থানীয় সম্প্রদায়, বিশেষ করে নারী, তরুণ ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে ক্ষমতায়িত করার মাধ্যমে আমরা একটি দীর্ঘস্থায়ী সহনশীল টেকসই পরিবেশ তৈরি করতে পারি।’
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সহযোগী হিসেবে ইউএনডিপি জিইএফ স্মল গ্র্যান্টস প্রোগ্রামের মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য সুরক্ষাকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করতে কাজ করে যাচ্ছে। নবগঠিত এই ১২টি অংশীদারিত্ব দেখিয়ে দেবে যে কীভাবে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নেতৃত্বে পরিচালিত উদ্যোগসমূহ জাতীয় পরিবেশগত অগ্রাধিকার অর্জনে এবং স্পর্শকাতর ইকোসিস্টেম রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।