ঢাকাশনিবার , ২৮ জুন ২০২৫
  • অন্যান্য

বাংলাদেশে চালু হলো ডিজিটাল বীজ চাহিদা পূর্বাভাস টুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুন ২৮, ২০২৫ ৪:২৩ অপরাহ্ণ । ১৮০ জন

দেশের কৃষক-কেন্দ্রিক ধান বীজ ব্যবস্থাকে আরও তথ্যভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) ও আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি) যৌথভাবে চালু করেছে ‘ডিজিটাল বীজ চাহিদা পূর্বাভাস টুল’।

এই ডিজিটাল উদ্ভাবনের লক্ষ্য হলো প্রকৃত কৃষকের চাহিদার সঙ্গে বীজ সরবরাহের সঠিক মিল নিশ্চিত করা, বীজ বিতরণ ব্যবস্থায় দক্ষতা আনা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য টেকসই পরিকল্পনা গড়ে তোলা।

এই উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হচ্ছে বিশ্বব্যাংকের PARTNER প্রোগ্রামের অধীনে, যেখানে এপিসিইউ (APCU) রয়েছে সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠানের ভূমিকায়। সম্প্রতি ঢাকায় এক বহু-অংশীজন কর্মশালায় এই টুলের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।

এই টুলের মূল ভিত্তি হলো স্থানীয় ও বাস্তব চাহিদাভিত্তিক তথ্য। এর মাধ্যমে সরবরাহের ঘাটতি বা উদ্বৃত্ত কমিয়ে বীজের সময়োপযোগী সরবরাহ নিশ্চিত করা যাবে। একইসঙ্গে এটি জলবায়ু-স্থিতিস্থাপক পরিকল্পনার জন্য সহায়ক একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

প্রযুক্তিগত নেতৃত্বে থাকা ইরি জানিয়েছে, তারা সিস্টেম ডিজাইন, গ্যাপ অ্যানালাইসিস ও ভবিষ্যদ্বাণীমূলক বিশ্লেষণ (Predictive Analytics) এর মাধ্যমে বিএডিসির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। ইতোমধ্যে প্রকল্পটিতে বাংলাদেশের বীজখাত সংশ্লিষ্ট নানা পক্ষ—বিআরআরআই, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই), বীজ বিক্রেতা ও কৃষক প্রতিনিধিরা—অংশ নিয়েছেন।

তারা বলেছেন, রিয়েল-টাইম ডেটা, আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং কৃষকের কণ্ঠস্বর অন্তর্ভুক্ত না করলে কার্যকর ও টেকসই বীজ ব্যবস্থার গঠন সম্ভব নয়।

এই টুলটি শুধু কৃষক বা বিতরণকারী সংস্থার জন্যই নয়, নীতিনির্ধারক, গবেষক ও উন্নয়ন অংশীদারদের জন্যও হবে এক অমূল্য সম্পদ। প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার ও সমন্বিত কৃষি পরিকল্পনায় এটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

এই টুলের মাধ্যমে বাংলাদেশের ধান বীজ ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা হলো, যা দেশের কৃষি খাতকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে সহায়তা করবে।