
বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মো. তোহা (২) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৭ জুন) রাতে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার। শিশুটি ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার মো. সোহেল মিয়ার ছেলে।
এর আগের দিন বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছিল। ফলে চলতি বছর বরিশাল বিভাগে সরকারি হিসাবে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ জনে, যার মধ্যে ছয়জনই বরগুনার বাসিন্দা।
আজ শনিবার (২৮ জুন) সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গুতে নতুন করে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৪১ জন। এর মধ্যে শুধু বরগুনা জেলারই ৬৮ জন। এ নিয়ে বরিশাল বিভাগে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪ হাজার ৪৪৬ জন। এর মধ্যে বরগুনাতেই আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৭০০ জন।
চাপে বরগুনার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা
বরগুনায় মার্চ থেকেই ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে গতকাল পর্যন্ত ২৩৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসক ও নার্সদের প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৪৫৪ জন। জেলার ভিত্তিতে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ৩৪ জন, বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৭ জন, বরিশাল সদর হাসপাতালে ১০ জন, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৪ জন, ভোলায় ৩ জন, পিরোজপুরে ৯ জন এবং ঝালকাঠিতে কেউ ভর্তি হননি।
বিপদে বরগুনা, নজরে স্বাস্থ্য বিভাগ
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, “বরিশাল বিভাগের অন্য জেলাগুলোয় পরিস্থিতি মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বরগুনার ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা চালাচ্ছে।”
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বরগুনায় পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রয়োজন সমন্বিত ও জোরালো ব্যবস্থা, বিশেষত পরিচ্ছন্নতা, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণে বাড়তি নজর।