ঢাকামঙ্গলবার , ৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

মৌসুমের সর্বনিম্ন ৭ ডিগ্রি তাপমাত্রায় স্থবির রাজশাহীর জনজীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক
জানুয়ারি ৬, ২০২৬ ১২:৩৭ অপরাহ্ণ । ১৩১ জন

রাজশাহীতে তাপমাত্রা নেমে এসেছে চলতি শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন পর্যায়ে। আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আকাশে কুয়াশার ঘনত্ব খুব বেশি না থাকলেও হাড়কাঁপানো হিমেল হাওয়ায় শীতের দাপট বেড়েছে কয়েকগুণ।

এর আগের দিন গতকাল সোমবার রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি এবং সর্বোচ্চ ১৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান ছিল মাত্র সাড়ে ৮ ডিগ্রি। তাপমাত্রার এই কম ব্যবধান ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হঠাৎ কমে যাওয়ায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। ভোর ৬টা ৪৭ মিনিটে সূর্যোদয়ের সময় থাকলেও সকাল ১০টা পর্যন্ত সূর্যের দেখা মেলেনি।

শীতের কারণে রাজশাহীর শহর ও গ্রাম—উভয় এলাকাতেই জনজীবন কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, সকালে বাতাসে আদ্রতার পরিমাণ ছিল ১০০ শতাংশ। ফলে কনকনে ঠান্ডা বাতাসে শরীরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র শীতের শিহরণ।

ভোরের রাজশাহী ছিল ধূসর কুয়াশায় মোড়া। রাস্তার বাতির আলো কুয়াশার আবরণ ভেদ করে ম্লানভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। রিকশাচালকেরা মাথায় মাফলার ও শরীরে চাদর জড়িয়ে কাঁপতে কাঁপতে যাত্রী খুঁজছেন। চায়ের দোকানের পাশে টিনের ড্রামে জ্বালানো আগুনে গা গরম করছেন শ্রমজীবী মানুষ।

শীতের প্রভাবে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। শিশু ও মেডিসিন ওয়ার্ডে বাড়তি রোগীর চাপ দেখা দিয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, হঠাৎ তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় নিউমোনিয়া, সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ। পঞ্চাশোর্ধ্ব রিকশাচালক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, সকাল-বিকেল ঠান্ডায় হাত জমে যায়। কিন্তু না বের হলে পেট চলবে না ভাই। এখনো মাঘ মাস আসেনি, তার আগেই এত শীত পড়ছে। সড়কে টেকাই যায় না।

আজ সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত রাজশাহীতে সূর্যের দেখা মেলেনি। গতকাল সোমবারও সারাদিন সূর্য আড়ালেই ছিল। সকাল পৌনে ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তাঘাট ছিল অনেকটাই ফাঁকা। যানবাহন চলাচল কম, দোকানপাটও বেশির ভাগ খোলেনি। প্রয়োজনের তাগিদে বাইরে বের হওয়া মানুষজন মোটা জামা, সোয়েটার, জ্যাকেট ও চাদরে শরীর ও মুখ ঢেকে চলাফেরা করছেন।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি শীতে প্রথম দফার শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয় গত ৩১ ডিসেম্বর। টানা চার দিন শৈত্যপ্রবাহের মধ্যে গত শুক্রবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পরে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও সোমবার আবার নেমে আসে ১০ ডিগ্রিতে। আজ এক ধাপে তিন ডিগ্রি কমে নেমে এসেছে ৭ ডিগ্রিতে।

আবহাওয়াবিদদের হিসাবে, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ১ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ ধরা হয়। সে হিসেবে বর্তমানে রাজশাহীতে চলছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক রহিদুল ইসলাম বলেন, আজ রাজশাহীতে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এই শৈত্যপ্রবাহ আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।