
রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় গত ২৬ অক্টোবর মেট্রোরেলের পিলারের বিয়ারিং প্যাড বিচ্যুত হয়ে খুলে পড়ার ঘটনায় পথচারী আবুল কালাম (৩৫) নিহত হওয়ার ঘটনায় দুর্ঘটনার মূল কারণ চিহ্নিত করেছে সেতু বিভাগের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি। তদন্তে বিয়ারিং প্যাডের মানগত ত্রুটি ও নকশাগত দুর্বলতার বিষয়টি উঠে এসেছে।
দুর্ঘটনার পরপরই সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তীতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলী এবং ফরেনসিক প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করে কমিটির পরিধি বাড়ানো হয়।
তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন, প্রত্যক্ষদর্শী, ট্রেন চালক, অপারেটর ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে। পাশাপাশি বিয়ারিং প্যাড প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, ঠিকাদার ও ডিজাইন পরামর্শকদের সঙ্গে কথা বলা হয়। ডিজাইন ডকুমেন্ট পর্যালোচনা, কম্পন পরিমাপ এবং ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমেও বিশ্লেষণ করা হয়।
তদন্তে দেখা যায়, বিচ্যুত বিয়ারিং প্যাডের হার্ডনেস, কম্প্রেশন সেট ও নিওপ্রিন কনটেন্ট প্রচলিত মান অনুযায়ী সঠিক ছিল না। এছাড়া প্যাডগুলো ০.৮ শতাংশ ঢালু অবস্থায় বসানো হয়েছিল, যা বিচ্যুতির ঝুঁকি বাড়িয়েছে। ফার্মগেট স্টেশনের উভয় প্রান্তে বৃত্তাকার এলাইনমেন্ট থাকা সত্ত্বেও কার্ড এলাইনমেন্টের জন্য পৃথক মডেলিং ও বিশ্লেষণ না করায় অতিরিক্ত পার্শ্ববল ও কম্পনের সৃষ্টি হয়। মধ্যবর্তী স্থানে রিজিড ট্র্যাক বসানোর কারণেও ভাইব্রেশন বৃদ্ধি পেয়েছে।
কমিটি মোট দশটি সভা করে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। এ সময় ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বরের পূর্ববর্তী একটি দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদনও পর্যালোচনা করা হয়। তবে পূর্বের তদন্তে উল্লেখিত কোনো কারণ নিশ্চিতভাবে চিহ্নিত হয়নি বলে জানানো হয়।
তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনার সঙ্গে নাশকতামূলক কোনো কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পায়নি।
প্রতিবেদনে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষকে একাধিক সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— বিয়ারিং প্যাড সরে যাওয়া রোধে যথাযথ কারিগরি ব্যবস্থা গ্রহণ, থার্ড পার্টি ইন্ডিপেন্ডেন্ট কনসালট্যান্ট দিয়ে ভায়াডাক্টের স্ট্রাকচারাল ও ট্র্যাক ডিজাইন পর্যালোচনা, সার্বিক সেফটি অডিট পরিচালনা, কার্যকর স্ট্রাকচারাল হেলথ মনিটরিং সিস্টেম স্থাপন এবং স্থানীয় ও বিদেশি বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে প্রযুক্তি স্থানান্তর ও সক্ষমতা বৃদ্ধি।