
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে দেশে প্রতিনিয়তই ফগার মেশিন দিয়ে মশা নিধনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নগর এলাকায় প্রতিদিন রাস্তা-ঘাটে দেখা যায় ধোঁয়ার মেঘের মতো ছড়িয়ে পড়া ফগার স্প্রে। কিন্তু এই ধোঁয়া কতটা নিরাপদ? বিশেষজ্ঞরা বলছেন—ফগার মেশিনে ব্যবহৃত রাসায়নিক উপাদান ও তেলের ধোঁয়া মানুষের শ্বাসতন্ত্র ও স্বাস্থ্যর জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ফগিংয়ে কী থাকে?
সাধারণত ফগার মেশিনে ব্যবহৃত হয় পারমেথ্রিন, ম্যালাথিয়ন বা ডেল্টামেথ্রিন জাতীয় কীটনাশক, যা পেট্রোলিয়াম বেইজড সালভেন্ট বা ডিজেলের সঙ্গে মিশিয়ে বাতাসে ছড়ানো হয়। এসব রাসায়নিক বাতাসে মিশে গিয়ে আশপাশের মানুষ, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের শ্বাসতন্ত্রে প্রবেশ করে নানা জটিলতা তৈরি করে।
স্বাস্থ্যঝুঁকি কী কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফগার মেশিনের ধোঁয়ার কারণে যেসব সমস্যা দেখা দিতে পারে, তার মধ্যে রয়েছে—
১. চোখ জ্বালাপোড়া ও পানি পড়া
২. গলা ও শ্বাসনালিতে জ্বালা
৩. কাশি ও শ্বাসকষ্ট
৪. ব্রঙ্কাইটিস বা হাঁপানির সমস্যা বেড়ে যাওয়া
৫. ত্বকে অ্যালার্জি বা চুলকানি
৬. দীর্ঘমেয়াদে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা হ্রাস
৭. কিছু ক্ষেত্রে নিউরোলজিক্যাল সমস্যাও
শিশু ও অসুস্থদের জন্য বাড়তি ঝুঁকি
বিশেষ করে শিশুরা, যাদের শ্বাসযন্ত্র পূর্ণভাবে বিকশিত হয়নি, এবং অ্যাজমা বা ক্রনিক শ্বাসকষ্টে ভোগা রোগীরা ফগিংয়ের ধোঁয়ায় বেশি ক্ষতির মুখে পড়েন। অনেকে ধোঁয়ার সংস্পর্শে এসেই তাৎক্ষণিকভাবে কাশি, বমি বা শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হন।
জনসচেতনতা ও বিকল্প প্রয়োজন
পরিবেশবিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনবহুল এলাকা বা স্কুল-হাসপাতালের আশপাশে ফগিং করার আগে সতর্কতা জারি করা জরুরি। ফগিংয়ের সময় মানুষকে যেন সরিয়ে নেওয়া হয়, ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ রাখতে বলা হয়, এমন নির্দেশনা কার্যকর করা দরকার।
এছাড়া, মশা নিয়ন্ত্রণে বিকল্প পদ্ধতির ওপরও জোর দিচ্ছেন তারা। যেমন— স্থায়ীভাবে পানি জমে থাকা প্রতিরোধ, প্রাকৃতিক কীটনাশকের ব্যবহার, নিম তেল বা লেবু-লবঙ্গের নির্যাস, মশারি ও জৈব পদ্ধতির ব্যবহার
মশা নিধন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেটা যেন মানুষের জন্য আরও বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি না করে। শহরাঞ্চলে ফগিংয়ের কার্যক্রম চালানোর সময় আরও বৈজ্ঞানিক, সচেতন ও জনস্বাস্থ্যবান্ধব পদ্ধতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এক কথায়, মশা মারতে গিয়ে যেন নিজের শ্বাস হারাতে না হয়—সেই সতর্কতাই এখন জরুরি।