
নেপালের মানাং জেলার হিমলুং হিমালের বেস ক্যাম্পে তুষারধসের ঘটনায় দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো ১৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ভারী বৃষ্টি ও তুষারপাতের পর এ তুষারধসের ঘটনা ঘটে।
সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট ও জার্মানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে (ডিডব্লিউ) এসব তথ্য জানিয়েছে।
৭ হাজার ১২৬ মিটার উচ্চতার হিমলুং হিমাল তিব্বত সীমান্তের কাছে অবস্থিত। তুষারধসে নিখোঁজ ব্যক্তিরা বিভিন্ন পর্বতারোহণ কোম্পানির গাইড ও কর্মী। পর্বতারোহীদের আরোহণের প্রস্তুতির জন্য তারা বেস ক্যাম্পে কাজ করছিলেন।
নেপাল ন্যাশনাল মাউন্টেন গাইডস অ্যাসোসিয়েশনের (এনএনএমজিএ) সভাপতি তুল সিং গুরুঙ জানান, কাঠমান্ডু থেকে যাওয়া একটি অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল হিমলুং এলাকায় দুটি মরদেহ উদ্ধার করেছে। তবে এখনো তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।
ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে এনএনএমজিএর বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে ১৪ জন রান্নাঘরের কর্মী ও দুজন পর্বতারোহণ গাইড ছিলেন। পরে ওই দুই গাইডের সন্ধান পাওয়া যায় এবং তাদের দুজনেরই মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তুষারধসের সময় বেস ক্যাম্পে ঠিক কতজন ছিলেন, তা নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয় পুলিশের হিসাবে, ঘটনার সময় সেখানে অন্তত ২২ জন ছিলেন। দুর্গম এলাকা ও যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় নিখোঁজ ও জীবিত ব্যক্তির সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এনএনএমজিএ জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযানে সহায়তার জন্য কাঠমান্ডু থেকে দুটি হেলিকপ্টারে করে গাইডদের হিমলুং এলাকায় নেওয়া হয়েছে। তুষারধসের পর সংস্থাটি আট সদস্যের একটি অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করেছে।
এর আগে সপ্তাহান্তে নেপালের বিভিন্ন এলাকায় বৈরী আবহাওয়ার সতর্কতা জারি করেছিল কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার থেকে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাত হচ্ছে। উত্তরাঞ্চলের উঁচু এলাকাগুলোতে তুষারপাতও হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সড়ক ও ট্রেকিং রুটে চলাচল ব্যাহত হয়েছে। কয়েকটি পর্বতে পর্বতারোহণ ও ট্রেকিং কার্যক্রমও স্থগিত করা হয়েছে।
বিশ্বের ৮ হাজার মিটারের বেশি উচ্চতার ১৪টি পর্বতের মধ্যে আটটির অবস্থান নেপালে। দেশটির অর্থনীতিতে ট্রেকিং ও পর্বতারোহণ পর্যটন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।