
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা প্রায় ৬০০ জনে পৌঁছেছে। বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত ৫৭৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় দুই হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নেপালের দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার সর্বশেষ আপডেটে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বন্যায় নিখোঁজ ১ হাজার ৯২৪ জনের মধ্যে ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক।
দুর্যোগকবলিত এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালাতে নিরাপত্তা বাহিনীর ১৫ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। খবর বিবিসির।
এদিকে নেপাল পুলিশের হিসাবে, নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা ৫৭৫ জন। তারা ৩৬টি দেশের নাগরিক। এর মধ্যে ভারতের ১৮৩ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৬৫ জন এবং ইউক্রেনের ৬২ জন নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া ৩৩ জন ব্রিটিশ নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন।
দুর্যোগকবলিত এলাকার কাছেই চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বত। সেখানে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র তীর্থস্থান কৈলাস মানস সরোবর অবস্থিত। প্রতিবছর ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক পর্যটক ও তীর্থযাত্রী সেখানে যান। এ কারণে নেপালে নিখোঁজ বিদেশিদের সংখ্যা এত বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত বুধবার সকালে হঠাৎ করে রাসুয়া এলাকার দিকে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল নেমে আসে। এতে ত্রিশূলী, নারায়নি ও ভোটেকোশি নদীর পানি দ্রুত বেড়ে যায়। পাহাড় থেকে নেমে আসা পানির সঙ্গে যুক্ত হয় ভূমিধসের কাদামাটি ও পাথর।
প্রবল স্রোতের কারণে বানের পানি পথে থাকা ঘরবাড়ি, সেতু, গাছপালা ও বৈদ্যুতিক খুঁটিসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ভাসিয়ে নিয়ে যায়। এতে বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ দেখা দিয়েছে।
নেপালের পাশাপাশি চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বতও এই দুর্যোগে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে অন্তত ৩০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
চীন এর আগে তিব্বতে তিনজনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিল। এরপর নতুন করে হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। তবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভয়াবহ এই বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে।