ঢাকারবিবার , ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ

নাটোরে রোপা আমন চাষে ব্যস্ত কৃষক

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ অগাস্ট ২০২৬, ২:৫৮ বিকাল

Link Copied!

অনুকূল আবহাওয়া, কৃষি উপকরণের সহজলভ্যতা এবং সরকারি প্রণোদনায় নাটোরে রোপা আমন ধান চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। নতুন জাতের ধানের সম্প্রসারণ, কৃষকদের পরামর্শ এবং প্রদর্শনী খামার স্থাপনের উদ্যোগে চলতি আমন মৌসুমে বৈচিত্র্যও বাড়ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে নাটোরে ৭৭ হাজার ১০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ৪৫ হাজার ৮৬১ হেক্টর জমিতে ধানের চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে উফশী জাতের ধান ৪৩ হাজার ৭৮৩ হেক্টর, হাইব্রিড ১ হাজার ৯০২ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ধান ১৭৬ হেক্টর জমিতে রোপণ করা হয়েছে।

নাটোর সদর উপজেলার মোহনপুর এলাকার কৃষক আহমেদুল কবীর জানান, আমন চাষের জন্য আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় তিনি নিজেই বীজতলায় চারা তৈরি করেছেন। এবার চার বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করছেন তিনি। এর মধ্যে দুই বিঘায় মিনিকেট এবং দুই বিঘায় কাজললতা জাতের ধান রোপণ করেছেন। জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণে বিঘাপ্রতি শ্রমিক খরচ হয়েছে প্রায় ৫ হাজার টাকা।

চলনবিল এলাকার কৈগ্রামের কৃষক মো. তৌফিকুজ্জামান জানান, তিনি সুগন্ধী জাতের ব্রি ধান-৩৪ ও ব্রি ধান-৪৯ চাষ করেছেন। এসব জাতের ফলন তুলনামূলক কম হলেও বাজারে দাম বেশি পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে সুগন্ধী ধানের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।

কুমিড়া গ্রামের কৃষক জুলফিকার আনাম বলেন, বিলে পানি পুরোপুরি নেমে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। পানি নামলে ১২ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করবেন।

সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফরিদ হাসান জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২৩ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে চারা রোপণ শেষ হয়েছে। বিলের পানি ধীরে ধীরে নেমে যাচ্ছে। অনেক কৃষক আউশ ধান কাটার পর আমন চাষে যাবেন। অক্টোবরের প্রথমার্ধ পর্যন্ত আমন চাষের কার্যক্রম চলবে।

তিনি আরও বলেন, চলনবিলের কৃষকরা বেশি বাজারমূল্যের আশায় পোলাও চালের জন্য ব্যবহৃত সুগন্ধী ধান চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। পাশাপাশি পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ জিংক ধান, যেমন বিনাধান-৯০ ও বিনাধান-১০৩ চাষেও কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে জেলার ১৪ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে এক বিঘা করে জমিতে আমন চাষের জন্য বিনামূল্যে ৫ কেজি বীজ এবং ১০ কেজি করে ডিএপি ও এমওপি সার দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ জিংক বায়োফর্টিফাইড বিনাধান-২০ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে জেলার চারটি উপজেলায় ৮০০ কৃষককে বিনামূল্যে বীজ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বীজতলায় চারা তৈরি করে সেগুলো জমিতে রোপণ করা হয়েছে। পাশাপাশি চারটি উপজেলায় এক একর করে জমিতে বিনাধান-২০-এর প্রদর্শনী খামার স্থাপন করা হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নাটোরের উপপরিচালক মো. হাবিবুল ইসলাম খান বলেন, বর্তমানে রোপা আমন চাষের জন্য আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। ধানের চারা, সার, সেচসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণও সহজলভ্য। কৃষকদের উৎসাহিত করতে সরকার বীজ ও সার প্রণোদনা দিয়েছে। পাশাপাশি প্রদর্শনী খামার স্থাপন এবং মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমন মৌসুমের পুরো কার্যক্রম উপজেলা ও জেলা কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকে নিবিড়ভাবে তদারকি করা হচ্ছে। ফলে চলতি মৌসুমে নাটোরে আমনের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এগিয়ে যাবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

ময়মনসিংহে ট্রাকচাপায় অন্তঃসত্ত্বা নারী নিহত

খুলনা-ঢাকা মহাসড়কে বাসের ধাক্কায় সাংবাদিক নিহত

আগামী পাঁচ দিনজুড়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির পূর্বাভাস

ইন্দোনেশিয়ায় ২৪৩ যাত্রী-ক্রু বহনকারী ফেরির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

উদ্বোধনী দিনে কৃষক কার্ডের প্রণোদনা পাবেন ১ লাখ ১০ হাজার কৃষক

রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের আশা

সকল জেলা-উপজেলায় ডায়ালাইসিস সেবা চালু করবে সরকার

ডিএনসিসির ৫৪ ওয়ার্ডে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান

কর্ণফুলীতে কাভার্ডভ্যান-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নারীসহ নিহত ৪

দৌলতপুরে পদ্মার পানি বাড়ছে, পানিবন্দী ৬০ হাজার মানুষ

যেসব ভুল স্বাস্থ্য ধারণা উপকারের বদলে ক্ষতি করছে

ইন্দোনেশিয়ায় ৬.৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প