ঢাকামঙ্গলবার , ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • অন্যান্য

দিনাজপুরে ঘন কুয়াশা ও কনকনে শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক
ডিসেম্বর ২৩, ২০২৫ ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ । ৩৬০ জন

উত্তরের জেলা দিনাজপুরে ঘন কুয়াশা ও কনকনে ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। টানা শীত ও হিমেল বাতাসে এ অঞ্চলের মানুষ চরম ভোগান্তিতে দিন কাটাচ্ছেন। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৩ শতাংশ।

দিনাজপুর জেলা আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ তোফাজ্জল হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানান, কয়েক দিন ধরে দিন ও রাতের তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় শীতের প্রকোপ বেড়েছে এবং ঘন কুয়াশা তৈরি হচ্ছে।

ভোর থেকেই ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসের কারণে সড়কে মানুষের চলাচল কমে গেছে। শীত থেকে বাঁচতে অনেককে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে। কেউ কেউ চায়ের দোকানে ভিড় করে গরম চা খেয়ে শরীর গরম করছেন। কুয়াশার কারণে দূরপাল্লার যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করছে, এতে সড়কে বাড়তি সতর্কতা দেখা গেছে।

তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও নিম্নআয়ের মানুষ। কাজের সুযোগ কমে যাওয়ায় তাদের দৈনন্দিন জীবন ও জীবিকা নির্বাহে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।

ট্রাকচালক হাবিব ইসলাম বলেন, গত তিন দিন ধরে ঘন কুয়াশার কারণে রাস্তায় ঠিকমতো কিছুই দেখা যাচ্ছে না। এতে গাড়ি চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। গতি কমিয়ে চলতে হচ্ছে, ফলে গন্তব্যে পৌঁছাতে আগের চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগছে।

অটোরিকশা চালক কাশেম জানান, এত কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে মানুষ ঘর থেকে বের হতে চায় না। যাত্রী কমে যাওয়ায় আয় অর্ধেকে নেমে এসেছে। আগে প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা আয় হলেও এখন তা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় নেমে এসেছে। শীত এলেই খেটে খাওয়া মানুষের কষ্ট দ্বিগুণ হয়ে যায়।

দিনমজুর আলী বলেন, ঠান্ডা বেশি পড়ায় কাজ প্রায় নেই বললেই চলে। শীতের কারণে অনেকেই কাজ করাতে চায় না। কাজ না থাকলে সংসার চালানো খুব কঠিন হয়ে পড়ে।

আলু চাষি পরিমল রায় বলেন, ভোরে আলু ক্ষেতে কাজ করতে গিয়ে প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে বেশিক্ষণ মাঠে থাকা যাচ্ছে না। শরীর কাঁপতে থাকে, বাধ্য হয়ে কাজ শেষ না করেই বাড়ি ফিরে যেতে হচ্ছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলে ঘন কুয়াশা ও শীতের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এ অবস্থায় যানবাহন চালানোসহ জনসাধারণকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।