ঢাকাবুধবার , ১২ নভেম্বর ২০২৫
  • অন্যান্য

তামাকমুক্ত টার্মিনাল গড়তে শ্রমিক ইউনিয়নের অঙ্গীকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নভেম্বর ১২, ২০২৫ ৯:২৮ অপরাহ্ণ । ১২৭ জন

গণপরিবহণ ও পাবলিক প্লেসে ধূমপান সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হলে জনসচেতনতার পাশাপাশি আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে- এমন মত দিয়েছেন বক্তারা। তারা বলেন, একটি শক্তিশালী তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন এবং এর কার্যকর বাস্তবায়নই পারে একটি বাস টার্মিনালকে সম্পূর্ণ ধূমপানমুক্ত করতে।

বুধবার (১২ নভেম্বর) সকালে “তামাকমুক্ত বাস টার্মিনাল প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন: করণীয় ও সম্ভাবনা” শীর্ষক মানববন্ধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় মহাখালি বাস টার্মিনালের শ্রমিক ইউনিয়ন হল রুমে। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ডেভেলপমেন্ট একটিভিটিস অব সোসাইটি (ডাস), বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা) এবং ঢাকা জেলা বাস মিনিবাস সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি: নং-২৪১৫)।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট-বাটা’র ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী ও প্রত্যাশা-মাদক বিরোধী সংস্থার সভাপতি হেলাল আহমেদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডাসের টিম লিড আমিনুল ইসলাম বকুল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডাসের কর্মসূচি সমন্বয়কারী মোয়াজ্জেম হোসেন টিপু।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ইউনিয়নের সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মোতালেব, কোষাধ্যক্ষ বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. রহিম উদ্দিন মুরব্বী, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জামাল মিয়া, প্রচার সম্পাদক মো. সুমন মিয়া, দপ্তর সম্পাদক মো. গিয়াস উদ্দিন ভূঁইয়া, সদস্য মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. মোক্তার আলী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ব্যুরো অব ইকোনোমিকস-এর প্রকল্প পরিচালক হামিদুল ইসলাম হিল্লোল, নাটাবের প্রকল্প পরিচালক ফিরোজ আহমেদ, ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের সিনিয়র প্রকল্প কর্মকর্তা সামিউল হাসান সজীব, এবং বাটার নেটওয়ার্কিং কর্মকর্তা আজিম হোসেন।

সভাপতি হেলাল আহমেদ বলেন, “পাবলিক পরিবহনে তামাক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নির্দেশনার পাশাপাশি চালক ও হেল্পারদের ইতিবাচক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিজেদের অধূমপায়ী হওয়ার মাধ্যমে তারা যাত্রীদেরও সচেতন করতে পারেন।” তিনি আরও বলেন, “নিজস্ব সচেতনতা ও মানসিক প্রস্তুতিই পারে একটি তামাকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে।”

বক্তারা আরও বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০০৫ এবং সংশোধিত ২০১৩ অনুযায়ী পাবলিক প্লেস ও পাবলিক ট্রান্সপোর্টে ধূমপান নিষিদ্ধ। এই আইন বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মালিক, তত্ত্বাবধায়ক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাধ্য, অন্যথায় তারা শাস্তিযোগ্য অপরাধে দণ্ডিত হবেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, বাস মালিক সমিতি, সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন, বিআরটিএ, জনপ্রশাসন, পুলিশ বিভাগ ও নাগরিক সমাজ একযোগে আইনের কার্যকর প্রয়োগে ভূমিকা রাখবে।

এছাড়া বক্তারা পরিবহন শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা ও সুযোগ-সুবিধা উন্নয়নের ওপর জোর দেন। তারা বলেন, টার্মিনাল এলাকায় যেন অবাধে ধূমপান না হয় এবং সিগারেটের দোকান বসানো না যায়, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। পাশাপাশি বাস মালিক সমিতির উদ্যোগে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানান তারা।