ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় একের পর এক ভূমিকম্পে উদ্বিগ্ন নগরবাসী। গত কয়েক দিনে রাজধানী ও নরসিংদী–গাজীপুর অঞ্চলে একাধিক কম্পন অনুভূত হয়েছে। স্বল্পমাত্রার হলেও এত ঘন ঘন ভূমিকম্প কেন হচ্ছে-এ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূতাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত সক্রিয় ভূকম্পন অঞ্চলের ওপর অবস্থান করায় এই কম্পনগুলো অস্বাভাবিক নয়। বরং এলাকাজুড়ে সক্রিয় ফল্টলাইনের চাপমুক্তির নিয়মিত প্রক্রিয়া হিসেবেই এসব ভূমিকম্প ঘটছে।
সক্রিয় ফল্টলাইনের ওপর ঢাকা
ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা–নরসিংদী–গাজীপুর অঞ্চল তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সক্রিয় ফল্টলাইনের কাছে অবস্থান করছে-মাধবদী–ঘোড়াশাল ফল্ট, দাউদকান্দি ফল্ট এবং দোক্কিনাগর ফল্ট। বিশেষ করে সাম্প্রতিক কম্পনের অধিকাংশ উৎস ছিল নরসিংদীর মাধবদী–ঘোড়াশাল এলাকায়। এই অঞ্চলে ভূগর্ভে জমে থাকা চাপ সময় সময় কম্পনের মাধ্যমে বেরিয়ে আসে।
টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়া
বাংলাদেশ ভূ-পৃষ্ঠের নিচের দুই বড় প্লেট-ইন্ডিয়ান প্লেট ও ইউরেশিয়ান প্লেটের সংঘর্ষ অঞ্চলে অবস্থান করছে। ইন্ডিয়ান প্লেটটি উত্তরের দিকে ধীরে ধীরে সরে গিয়ে ইউরেশিয়ান প্লেটের নিচে ঢুকে যাচ্ছে। এই অবিরাম গতিবিধির ফলে ভূগর্ভে শক্তি সঞ্চিত হয় এবং নিয়মিত ছোট-বড় ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়।
অগভীর ভূমিকম্প বেশি অনুভূত হয়
ঢাকা অঞ্চলের বেশিরভাগ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ১০–২০ কিলোমিটার গভীরে, যা তুলনামূলক অগভীর হিসেবে ধরা হয়। অগভীর উৎসের ভূমিকম্প সাধারণত বেশি অনুভূত হয় এবং ঘন ঘন হওয়ার প্রবণতাও দেখা যায়।
পূর্বাঞ্চলের চাপের প্রভাব
মিয়ানমার ও ভারতের পূর্বাঞ্চলে বড় ভূমিকম্পের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ওই অঞ্চলের টেকটোনিক চাপ বাংলাদেশের ফল্টলাইনে প্রভাব ফেলে, যার ফলেও সময় সময় ছোট কম্পন হতে পারে। সাম্প্রতিক কম্পনগুলোর পেছনেও এমন আঞ্চলিক প্রভাব থাকায় সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘন ঘন ছোট ভূমিকম্প সাধারণত প্লেটের শক্তি ধীরে ধীরে মুক্ত হওয়ার ভালো লক্ষণ। এ ধরনের কম্পনে বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি কমে। তবে ঢাকা–মাধবদী অঞ্চলের ফল্টলাইনে দীর্ঘদিন ধরে চাপ জমে আছে বলে বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করা যাচ্ছে না।
সতর্কতার বিকল্প নেই
ইঞ্জিনিয়ার ও দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই পরিস্থিতিতে ভবনগুলো ভূমিকম্প সহনশীল কিনা তা দ্রুত যাচাই করা জরুরি। পাশাপাশি সরকারি–বেসরকারি পর্যায়ে জরুরি প্রস্তুতি নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করাও অত্যন্ত প্রয়োজন।


