
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ১৭টি ওয়ার্ডে প্রায় ১২ লাখ মানুষকে বিনামূল্যে কলেরার টিকা দেওয়া হবে। আগামী ২২ আগস্ট থেকে প্রথম ডোজ এবং ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার মাধ্যমে এ টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হবে। সম্পূর্ণ সুরক্ষার জন্য নির্ধারিত সময়ের ব্যবধানে দুটি ডোজই গ্রহণ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ডিএসসিসির অডিটোরিয়ামে ‘প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন-২০২৬’-এর উদ্বোধন ও সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
ডিএসসিসি সূত্রে জানা গেছে, লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচর থানার ১৭টি ওয়ার্ডে ১৯২টি কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রায় ১১ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে কলেরার টিকা দেওয়া হবে। এক বছর বা তার বেশি বয়সী সব নাগরিক এ টিকা নিতে পারবেন। তবে গর্ভবতী নারীরা এ কর্মসূচির আওতায় থাকবেন না।
নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিনামূল্যে টিকা দেওয়া হবে।
সারাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ ১৪টি উপজেলা ও থানায় এ কর্মসূচির আওতায় মোট ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম ডোজ ২২ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর এবং দ্বিতীয় ডোজ ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেওয়া হবে।
ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, পুরান ঢাকাসহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইপিআই কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা রয়েছে ডিএসসিসির। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ১৭টি ওয়ার্ডে কলেরার টিকাদান কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নে ডিএসসিসি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
জীবাণুর সংক্রমণে সৃষ্ট কলেরা প্রতিরোধে মুখে খাওয়ার এ টিকা দেওয়া হচ্ছে। টিকাটি কলেরার তীব্রতা কমানোর পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে শুধু টিকা নয়, নিরাপদ পানি পান, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ও নিয়মিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি, ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ পিটার জর্জ এল মাইস, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশীদ মোহামেদ, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব মো. হাবিবুর রহমান খান, আইসিডিডিআর’বির সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ড. ফিরদৌসী কাদরী এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।