
টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, প্রতিবেশগত ভারসাম্য ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া (ইসিএ) ঘোষিত অংশে সব ধরনের হাউসবোট ও পর্যটকবাহী নৌযানের প্রবেশ ও চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন।
রোববার (২ আগস্ট) সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সংক্রান্ত ১১ দফা জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ইসিএ ঘোষিত এলাকায় কোনো হাউসবোট বা পর্যটকবাহী নৌযান প্রবেশ কিংবা চলাচল করতে পারবে না।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, প্রতিটি হাউসবোটে পর্যটকদের জন্য আচরণবিধি দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন এবং ভ্রমণ শুরুর আগে তা অবহিত করতে হবে। উচ্চস্বরে গান, মাইক ব্যবহার ও পার্টি আয়োজন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বহন করা যাবে না এবং বিশুদ্ধ পানির জন্য ফিল্টার রাখতে হবে।
এছাড়া প্রতিটি হাউসবোটে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট, লাইফবয়, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, নিরাপদ গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবস্থাপনা, সেপটিক ট্যাংক ও অন্তত দুটি ডাস্টবিন রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কোনো ধরনের বর্জ্য হাওর বা জলাশয়ে ফেলা যাবে না।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পর্যটক পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতালের জরুরি যোগাযোগ নম্বর দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসন আরও জানিয়েছে, আগামী ১০ আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সব হাউসবোট ও ট্যুর অপারেটরকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন না করলে তাদের পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হবে না এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।