মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সংকট গভীরতর হওয়ায় মিশর সরকার দোকান, রেস্টুরেন্ট ও ক্যাফেগুলো নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে নেওয়া এই সাময়িক পদক্ষেপ আগামী এক মাস কার্যকর থাকবে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতিদিন রাত ৯টার (গ্রিনিচ মান সময় ৭টা) মধ্যে সব খুচরা দোকান, রেস্টুরেন্ট ও ক্যাফে বন্ধ করতে হবে। ক্রমবর্ধমান জ্বালানি মূল্যের চাপ মোকাবিলায় এটিকে ‘ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে কর্তৃপক্ষ।
জ্বালানি সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে সড়কের আলোকসজ্জা ও বিজ্ঞাপনের আলো কমানো হয়েছে। পাশাপাশি এপ্রিল মাসে সপ্তাহে একদিন বাসা থেকে কাজ (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে কায়রো শহরে দেখা গেছে, অলিগলির দোকানপাট, রেস্টুরেন্ট ও ক্যাফেগুলো রাত ৯টার আগেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, যা স্থানীয় জীবনে নতুন পরিবর্তন আনছে।
তবে পর্যটন খাতকে এই বিধিনিষেধের বাইরে রাখা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, হোটেল ও পর্যটনকেন্দ্রগুলো এই নিয়মের আওতামুক্ত থাকবে, কারণ দেশের অর্থনীতিতে পর্যটনের অবদান প্রায় ১০ শতাংশ।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় মিশর সরকার এরই মধ্যে জ্বালানির দাম ও গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি করেছে। পাশাপাশি বড় আকারের জ্বালানিনির্ভর সরকারি প্রকল্প ধীরগতিতে চালানো এবং সরকারি যানবাহনের জ্বালানি বরাদ্দ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী ড. মোস্তাফা মাদবুলি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়, বরং সরকার ও নাগরিকদের যৌথ দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, যদি যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে হবে, যাতে এটি মিশরের অর্থনীতির গতিশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে।


