
জ্বালানি তেলের আমদানি নির্বিঘ্ন রাখা এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার অর্থ জোগাতে ৩১০ কোটি ডলারের অনমনীয় বিদেশি ঋণ নিচ্ছে সরকার। সৌদি আরবের জেদ্দাভিত্তিক ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইটিএফসি) থেকে এ ঋণ নেওয়া হবে।
এর মধ্যে ২৫০ কোটি ডলার জ্বালানি তেল আমদানিতে এবং ৬০ কোটি ডলার এলএনজি আমদানিতে ব্যয় করা হবে। সরকারের ঋণসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত অনুমোদনকারী কমিটি স্ট্যান্ডিং কমিটি অন নন-কনসেশনাল লোনস (এসসিএনসিএল) বুধবার এ ঋণের অনুমোদন দিয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জরুরি জ্বালানি আমদানির জন্য এ ঋণের অনুমোদন দেওয়া হয়। জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখা এবং আমদানি কার্যক্রমে অর্থের জোগান নিশ্চিত করতেই জরুরি ভিত্তিতে ঋণটি নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বৈঠকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের আরও ২০ কোটি ডলারের একটি ঋণসহ মোট ৩৩০ কোটি ডলারের অনমনীয় বিদেশি ঋণের অনুমোদন দেওয়া হয়।
আইটিএফসির ৩১০ কোটি ডলারের ঋণটি হবে স্বল্পমেয়াদি। ছয় মাস মেয়াদি ঋণের সুদহার নির্ধারণ করা হয়েছে ছয় মাসের টার্ম এসওএফআরের সঙ্গে ১ দশমিক ৭০ শতাংশ যোগ করে। আগের বছরের বার্ষিক সুদহারের তুলনায় এ হার কিছুটা কম।
এই ঋণের মধ্যে আইটিএফসি নিজস্ব তহবিল থেকে ৬০ কোটি ডলার দেবে। বাকি ২৫০ কোটি ডলার বিভিন্ন সহ-অর্থায়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে। পুরো অর্থই জ্বালানি আমদানির অর্থায়নে ব্যবহার করবে সরকার।
এর আগে জ্বালানি তেল আমদানির অর্থায়নের জন্য বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং এলএনজি আমদানির জন্য পেট্রোবাংলার প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে এ ঋণ নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। জ্বালানি সরবরাহে যাতে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে, তা বিবেচনায় নিয়েই ঋণটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এদিকে বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থা আধুনিকায়নের জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে আরও ২০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করেছে এসসিএনসিএল। ‘পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক এনহ্যান্সমেন্ট’ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি) এ অর্থ পাবে।
এডিবির ঋণটির সুদহার হবে এসওএফআরের সঙ্গে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ। ঋণের মেয়াদ ২৫ বছর এবং পাঁচ বছর গ্রেস পিরিয়ড থাকবে। এর সঙ্গে শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ ম্যাচিউরিটি প্রিমিয়াম ও শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ কমিটমেন্ট চার্জ রয়েছে।
ঋণটির গ্রান্ট এলিমেন্ট মাত্র ৫ দশমিক ৭০ শতাংশ। এটি ২৫ শতাংশের নিচে হওয়ায় ঋণটিকেও অনমনীয় ঋণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
বিআরইবির আওতাধীন ঢাকার আশপাশের ১৩টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বাড়ানো, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার এবং জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তুলতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০৩১ সালের জুলাই পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় সাবস্টেশনের সক্ষমতা বাড়ানো, ভূগর্ভস্থ ও ওভারহেড বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন, ইনসুলেটেড কন্ডাক্টর ব্যবহার এবং ডিজিটাল মনিটরিং ও ত্রুটি শনাক্তকরণ ব্যবস্থা উন্নত করা হবে। এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থার সিস্টেম লস কমানোর পাশাপাশি সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।
সরকারের অনমনীয় ঋণসংক্রান্ত নীতিমালা অনুযায়ী, এ ধরনের ঋণের ঋণসেবা পরিশোধ সংশ্লিষ্ট অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের ১০ শতাংশ বা রাজস্ব আয়ের ১৫ শতাংশের মধ্যে থাকতে হয়। ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে সরকারের ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা এবং জাতীয় অগ্রাধিকারও বিবেচনায় নেওয়া হয়।