
হঠাৎ কোন বাড়িতে শিশু নিয়ে হৈচৈ শুরু হলে খোঁজ নিয়ে জানবেন জ্বরাক্রান্ত শিশু হঠাৎ কালচে নীল হয়ে বেহুঁশ হয়ে গেছে বা অনবরত খিচুনি দিচ্ছে। বুঝতে হবে শিশুর জ্বর জনিত খিচুনি হয়েছে।
জ্বর জনিত খিচুনি যে রকম উদ্বেগ সৃষ্টি কারী ঘটনা, বাস্তবে অত ভয়ংকর কোন রোগ নয়। কিন্তু এটার প্রেজেন্টেশন ভীতিকর। তবে এটি কি এবং কেন হয় আর খিচুনির সময় করনীয় যদি জানা থাকে উদ্বেগের কিছু ই নেই।
প্রথমত জানতে হবে জ্বর জনিত খিচুনি কত প্রকার। সাধারণত এটি দু’রকম। Typical এবং Atypical. টিপিক্যাল, এটিপিক্যাল যে ধরনের হোক চিকিৎসা এবং ম্যানেজমেন্ট কিন্তু সমান।
কোন বয়সে হয়?
সাধারণত এটি ৬ মাস বয়স থেকে ৬ বছর বয়সের শিশুদের জ্বর হবার প্রথম বা দ্বিতীয় দিনে হয়। কদাচিৎ ৩য় দিনে ও হয়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় গড়ে ১৪ মাস বয়েসী শিশুরা জ্বরের প্রথম দিনে আক্রান্ত হয়।
টিপিক্যাল বা কমন ধরনের হলে খিচুনি কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হয়। মুহূর্তে ই এটি ঠিক হয়ে যায়। যদি ৫ থেকে ১৫ মিনিট পর্যন্ত খিচুনি চলে তবে তাৎক্ষণিক কিছু করনীয় আছে। এটি সবার জানা জরুরী।
যদি এটি ১৫ মিনিটের চেয়ে বেশি স্থায়ী হয় বা প্রথম দিন না হয়ে দ্বিতীয় / তৃতীয় দিন ঘটে তাহলে একে এটিপিক্যাল বা ব্যতিক্রম ধরনের জ্বর জনিত খিচুনি বলতে হবে।
কেন হয়?
জ্বরাক্রান্ত বেবির জ্বর যদি হঠাৎ বা sudden rise করে তখন মস্তিষ্কে একটা ঝাঁকুনি তৈরি হয়। আর শরীর কেঁপে ওঠে বা বেঁকে যায় বা বেবি নীলচে কাল হয়ে খিচতে থাকে।
হলে করনীয় —
১. বালিশ ছাড়া বিছানায় শিশুকে ডান কাত বা বাম কাত করে শুইয়ে দিন।
২. গায়ের কাপড় খুলে নিন।
৩. কুসুম গরম জল বা হাতের কাছে যে জল আছে তাতে কাপড় ভিজিয়ে নিয়ে গা মুছতে থাকুন। যেন দ্রুত জ্বর কমে যায়।
৪. পনের মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। জ্বর কমলে নিকটতম হসপিটালে নিয়ে চলুন।
মোট কথা খিচুনিরত অবস্থায় শিশুকে নিয়ে দৌঁড় দেবেন না। এতে দম বন্ধ হয়ে বিপদ হতে পারে।
জ্বর হলে করনীয় —
আগে থেকে জানা বেবিদের ক্ষেত্রে জ্বর হবার প্রথম দিন থেকে প্রয়োজন পরিমাণ প্যারাসিটামল ৬ ঘন্টা পর পর দিতে থাকুন। সাথে গ্যাপ পিরিয়ডে বারে বারে কুসুম গরম জলে গা মুছতে থাকুন।
Tab Sedil 5mg /clobam 10mg আধা ট্যাবলেট করে দিনে ২বার তিনদিন দিতে ভুলবেন না। তারপর ও খিচুনি হয়ে গেলে জরুরী করনীয় করে নিকটতম হসপিটালে নিয়ে যাবেন। বাকীটা চিকিৎসকরা দেখবেন।
এটিপিক্যাল বা ব্যতিক্রম ধরনের খিচুনি হলে শিশুকে হায়ার সেন্টার এ ভর্তি করিয়ে চিকিৎসা নিতে হবে। আর জেনারেল এবং পূর্ব ইতিহাস আছে খিচুনি হবার- এরকম ক্ষেত্রে হোম চিকিৎসা নিলেও নিতে পারেন। তবে এটি নির্ভর করে আপনার শিশুর চিকিৎসক কি সিদ্ধান্ত দেন তার উপর। কখনোই চিকিৎসকদের পরামর্শ অমান্য করবেন না। এতে বিপদ হতে পারে।