ঢাকামঙ্গলবার , ১১ অগাস্ট ২০২৬
  1. সর্বশেষ

জলাতঙ্কের টিকা আবিষ্কারক লুই পাস্তুরের জন্মদিন

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
২৭ ডিসেম্বর ২০২৩, ৮:৪৮ বিকাল

Link Copied!

শিল্পী Albert Edelfelt

রোগের পেছনে অণুজীবের ভূমিকা এবং কীভাবে ভ্যাকসিন দিয়ে রোগ প্রতিরোধ করা যায়, এ বিষয়ে আবিষ্কার করা প্রথম দিককার বিজ্ঞানীদের একজন লুই পাস্তুর। সাধারণভাবে তাঁর পরিচয় জলাতঙ্ক রোগের টিকার আবিষ্কারক হিসেবেই। ১৮২২ সালের ২৭ ডিসেম্বর ফ্রান্সের দোলে জন্ম নেন এ বিজ্ঞানী।

ওই সময়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে প্রচলিত ধারণা ছিল খাবার নষ্ট হওয়া এবং গাঁজন হলো এমন একটি রাসায়নিক প্রক্রিয়া, যা বাতাসের অক্সিজেনের কারণে ঘটে।

১৮৩০-এর দশকে দুই বিজ্ঞানী থিওডর সোয়ান এবং শার্ল কেনিয়ার দ্য লা তুর অণুবীক্ষণ যন্ত্র ব্যবহার করে পর্যবেক্ষণ করেন যে বিয়ারের ইস্ট পুনরুৎপাদনকারী কোষ দিয়ে গঠিত। তাঁরা প্রস্তাব করেন, এদের বৃদ্ধির কারণে তৈরি হয় অ্যালকোহল। লুই পাস্তুর রাসায়নিক পচনতত্ত্বকে বাতিল করে তার নিজস্ব বিশদ পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করা পর্যন্ত তাদের ধারণাগুলো ছিল উপেক্ষিত।

পাস্তুর বুঝতে পেরেছিলেন যে খুদে জীবাণু খাবার নষ্ট করার জন্য দায়ী। বিষয়টির সঙ্গে ওয়াইনের সম্পর্ক থাকায় ফ্রান্সের অর্থনীতির জন্যও খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে এটি। পাস্তুর আবিষ্কার করেছিলেন যে ওয়াইনকে ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় গরম করলে ব্যাকটেরিয়া মারা যায়। এভাবে স্বাদকে প্রভাবিত না করেই ওয়াইন নষ্ট হওয়া বন্ধ করা যায়। প্রক্রিয়াটি পাস্তুরাইজেশন হিসেবে পরিচিতি পায়, যা আজও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

ফ্রান্সে রেশম পোকার এক মহামারিতে রেশমের উৎপাদন হ্রাস পেয়েছিল। ১৮৬৫ সালে ফ্রান্স সরকার পাস্তুরকে রেশমশিল্পের সমস্যা সমাধানের অনুরোধ করেন। পাস্তুর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বুঝতে পারেন যে রেশম পোকার এই সমস্যা বংশগত। অর্থাৎ মায়ের থেকে পরবর্তী প্রজন্মে সংক্রামিত হয়। তিনি শিল্পটিকে বাঁচানোর জন্য রোগমুক্ত গুটি বাছাই করার প্রস্তাব করেন।

১৮৮০ সালে পাস্তুর মুরগির কলেরার ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন। জঁ জজি অরি ত্যুসাঁ আগে এটি নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন। পাস্তুর দেখতে পেলেন যে কিছু কৌশল ব্যবহার করে জীবাণুর বিষক্রিয়া কমানো সম্ভব। এই দুর্বল জীবাণু দিয়ে তৈরি টিকা মুরগিকে রোগটির থেকে রেহাই পেতে সাহায্য করবে। তিনি বিশ্বাস করতেন যে এই নীতি সমস্ত সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে ভ্যাকসিন বা টিকা তৈরিতে প্রয়োগ করা যেতে পারে।

তিনি অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত ভেড়াকে সুস্থ করে তুলতে একটি পরীক্ষা চালান। ঘটনাটি ১৮৮৫ সালের। দুই দল ভেড়াকে অ্যানথ্রাক্স জীবাণুর টিকা দেওয়া হলো। টিকা দেওয়া ভেড়াগুলো বেঁচে যায়, না পাওয়াগুলো মারা যায়। পাস্তুরের দাবি ছিল, তিনি প্রতিষেধকটা তৈরি করেন নিজের পদ্ধতিতে, মানে বাতাসে রেখে। এ ক্ষেত্রে পাস্তুর তাঁর নিজের নয়, ত্যুসাঁর একটি পদ্ধতি অনুসারে তৈরি একটি ভ্যাকসিন ব্যবহার করেছিলেন। তবে এ কথা তখন প্রকাশ করেননি। ১৯৭০-এর দশকে তাঁর গোপন নোটবুকগুলো ইতিহাসবিদদের হাতে আসার পর বিশ্ব এ বিষয়ে তাঁর হতাশার কথা জানতে পারে।

১৮৮৫ সালে পাগলা কুকুরে কামড়ানো একটি ছেলেকে পাস্তুরের কাছে আনা হয়। পাস্তুর তাঁকে একের পর এক ইনজেকশন দেন এবং সে বেঁচে যায়। আর এভাবেই লুই পাস্তুরের হাত ধরে আবিষ্কৃত হয় জলাতঙ্ক রোগের টিকা।

পরে পাস্তুর বাণিজ্যিকভাবে অ্যানথ্রাক্স ও জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন তৈরি করতে শুরু করেন এবং পাস্তুর ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার জন্য এই আয় ব্যবহার করেন। পাস্তুর ইনস্টিটিউটের পরিচালক থাকা অবস্থায় ১৮৯৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নেন এই বিজ্ঞানী।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

পুলিশকে জরিমানা করার ক্ষমতা দিলে গণপরিবহনে ধূমপান বন্ধ হবে

আমিরাতে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশিদের ভিসা পুনর্বহালের দাবি

Realme C100X with new battery backup surprises

ব্যাটারি ব্যাকআপে নতুন চমক নিয়ে রিয়েলমি সি১০০এক্স

লঘুচাপের প্রভাবে টানা কয়েক দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস

এইচ৫ বার্ড ফ্লু: ঝুঁকিপূর্ণ পাখিকে টিকা দেবে অস্ট্রেলিয়া

রাঙ্গামাটির ৩৮৯ বিদ্যুৎবিহীন বিদ্যালয়ে সোলার প্যানেল বসানোর পরিকল্পনা

শাহরাস্তিতে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৩

যেভাবে বুঝবেন আপনার হাড় দুর্বল হচ্ছে কি না

চীনে শক্তিশালী টাইফুন ডলফিন, ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসের সতর্কতা

কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ১১১

এক আগুন নিভতেই আরেক আগুন, ভয়াবহ দাবানলে যুক্তরাষ্ট্র