
চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন বাজার ও সড়কের পাশে হঠাৎ দেখা মিলছে হলুদ রঙের নতুন এক ফলের। দূর থেকে দেখতে দেশি বাঙ্গী বা বিদেশি জাতের তরমুজের মতো হলেও ফলটির গায়ে লাগানো স্টিকারে লেখা—‘সাম্মাম, হানি ডিউ, এক্সপোর্ট কোয়ালিটি’। আকার-আকৃতিতে ভিন্ন এই ফলটি দেখে কৌতূহলী হয়ে থেমে যাচ্ছেন পথচারীরা।
গত দুয়েক সপ্তাহ ধরে নগরীর আন্দরকিল্লা, মোমিন রোড, জামালখান, চকবাজার, বহদ্দারহাট ও নিউ মার্কেট এলাকায় ভ্যানে করে বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে সাম্মাম। কেজি দরে বিক্রি হওয়া ফলটির দাম এলাকাভেদে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা।
ফলটির ওজন সাধারণত দুই থেকে তিন কেজির কাছাকাছি। দেখতে অনেকটা দেশি বাঙ্গীর মতো হলেও ভেতরের অংশ বেশ রসালো এবং স্বাদে মিষ্টি।
চট্টগ্রামের স্টেশন রোডের ফলমন্ডিতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাম্মাম মূলত আরব দেশগুলোর ফল। আমিরাত, ওমান ও কাতারে এর বেশি উৎপাদন হয়। গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কিছু জেলায় সাম্মামের বাণিজ্যিক চাষও হচ্ছে। তবে দেশে এর উৎপাদন এখনো পর্যাপ্ত নয়।
ফলমন্ডির আমদানিকারকরা এবার চীন থেকে সাম্মাম আমদানি করেছেন। প্রথম দিকে পরীক্ষামূলকভাবে দুয়েকটি চালানে সীমিত পরিমাণে ফলটি আনা হয়েছে। চাহিদা বাড়লে আমদানির পরিমাণও বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, সাম্মামকে প্রথম দেখায় যতটা অচেনা মনে হয়, কৃষিবিজ্ঞানের দিক থেকে এটি ততটা অজানা নয়। এটি মেলনজাতীয় ফল, যার সঙ্গে রক মেলন, মাস্কমেলন, সুইটমেলন ও হানিডিউর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। আরব দেশগুলোতে এটি ‘সাম্মাম’ নামে পরিচিত এবং সেখানে এর উৎপাদন বেশি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশেও গত কয়েক বছর ধরে সাম্মামের বাণিজ্যিক চাষ শুরু হয়েছে। বিভিন্ন জাত ও উৎপাদন পদ্ধতির কারণে ফলটির বাইরের রং, ভেতরের শাঁস, গন্ধ, মিষ্টতা ও আকারে পার্থক্য দেখা যায়। দেশের বিভিন্ন খামারে উৎপাদিত সাম্মামের ওজন দুই থেকে তিন কেজি পর্যন্ত হওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে।
ফলমন্ডির বিসমিল্লাহ ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী আবদুল জব্বার বলেন, চট্টগ্রামের বাজারে এবার যে সাম্মাম পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো চীন থেকে আমদানি করা। কয়েকটি চালানের মাধ্যমে ফলগুলো এসেছে। ফলমন্ডিতে আসার পর পাইকারি পর্যায় থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে।
জানা গেছে, চীন মেলন উৎপাদনে বিশ্বের অন্যতম প্রধান দেশ। দেশটির প্রায় সব প্রদেশেই কোনো না কোনো ধরনের মেলন উৎপাদিত হয়। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল বিশেষ করে হানিডিউ ও হামী মেলনের জন্য পরিচিত। দেশটিতে মেলনের বিভিন্ন জাত ও উৎপাদন অঞ্চল রয়েছে।
জামালখান মোড়ের এক ভ্যান বিক্রেতা বলেন, বিদেশি ফল হিসেবে পরিচিত হলেও অন্যান্য অনেক আমদানি করা ফলের তুলনায় সাম্মামের দাম ক্রেতাদের কাছে তুলনামূলকভাবে সহজলভ্য। ফলে কৌতূহলী ক্রেতাদের পাশাপাশি নিয়মিত ফল কেনেন এমন অনেকেই এটি কিনে স্বাদ নিচ্ছেন।
তিনি বলেন, সাম্মামের অন্যতম আকর্ষণ এর স্বাদ। বাইরে থেকে দেখতে দেশি বাঙ্গীর মতো হওয়ায় কাটার পর অনেক ক্রেতাই এর স্বাদকে বাঙ্গীর সঙ্গে তুলনা করছেন। মিষ্টি, রসালো ও সুগন্ধযুক্ত হওয়ায় এটি খাওয়ার পদ্ধতিও অনেকটা বাঙ্গীর মতো। ফলটি কেটে ভেতরের শাঁস ও বীজ আলাদা করে খাওয়া যায়।
চট্টগ্রামের পুষ্টিবিদ হাসিনা আকতার লিপি বলেন, সাম্মাম মেলনজাতীয় হওয়ায় এর পুষ্টিগুণও উল্লেখযোগ্য। মেলনজাতীয় ফলে সাধারণত পানির পরিমাণ বেশি থাকে। ক্যান্টালুপ বা মাস্কমেলনের প্রতি ১০০ গ্রামে প্রায় ৯০ গ্রাম পানি থাকার তথ্য পাওয়া যায়। এতে ভিটামিন ই, ভিটামিন এ-এর পূর্বধাপ বিটা-ক্যারোটিন, পটাশিয়াম, ফোলেট ও কিছু খাদ্যআঁশও থাকে।